ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

হলফনামায় গরমিল নিয়ে সারজিসের ব্যাখ্যা

২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৯:০৮:৫৬
হলফনামায় গরমিল নিয়ে সারজিসের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক : হলফনামা সংক্রান্ত ভুল তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম। তিনি বলেন, তার হলফনামায় বার্ষিক আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত একটি অনিচ্ছাকৃত টাইপিং ভুল ছিল, যা আইন অনুযায়ী সংশোধন করে পুনরায় জমা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের এনসিপির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, “হলফনামায় দেওয়া অন্যান্য সব তথ্য সঠিক রয়েছে। কিন্তু একটি টাইপিং ভুলকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে ও আমাদের দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু তথাকথিত অ্যাক্টিভিস্ট পরিকল্পিতভাবে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এসব প্রচারের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক দলকে হেয় করা, প্রার্থীকে বিতর্কিত করা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের প্রশ্নবিদ্ধ করা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, “মিরজাহান নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে ওবায়দুল কাদের পালানোর ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে পোস্ট করেছিলেন। পরে পুলিশ তদন্ত করে সেটির কোনো সত্যতা পায়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পোস্টটি মুছে ফেলতে বাধ্য হন।”

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি হাদি হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনা ও নির্বাচনের আগে রায় কার্যকরের দাবিতে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশট ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। এ ধরনের কিছু অ্যাক্টিভিস্ট অর্থের বিনিময়ে বা নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নে জনগণের আবেগ নিয়ে খেলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির এই নেতা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে বলেন, “বিএনপির লোকজন আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমাদের দেখে নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগেই যদি ক্ষমতার দাপট, পেশিশক্তি ও কালোটাকার ব্যবহার শুরু হয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।”

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জিডি ও মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি। “আওয়ামী লীগের আমলের মতো কালচার চালিয়ে কেউ পার পেয়ে যাবে—এটা এই বাংলাদেশে চলবে না,” যোগ করেন সারজিস আলম।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তিনি বলেন, “এই এক থেকে দেড় বছরে যদি কেউ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে আমি তা মাথা পেতে নেব। কিন্তু আওয়ামী লীগের পেইড এজেন্ট হিসেবে যারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুরভী নামের এক ব্যক্তির মামলায় ৫০ হাজার টাকার বিষয়কে ৫০ কোটি টাকা হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এ ধরনের প্রোপাগান্ডা বন্ধ না হলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে সারজিস আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় যেভাবে গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তারা একই ধরনের নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে—এটাই তার প্রত্যাশা। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে