ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

১ বছরে ১৮ লাখ টাকা: লুটপাটের চাঞ্চল্যকর কাণ্ড

২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১১:১৭:২৯
১ বছরে ১৮ লাখ টাকা: লুটপাটের চাঞ্চল্যকর কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের আমিরাবাদ জনকল্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে এক বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেন ও ভুয়া হিসাব উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কর্তৃক গঠিত অডিট কমিটি। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।

অডিট কমিটি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীনের সহায়তায় বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন শায়লা খানম। তিনি চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করায় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারতেন না। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক খেয়ালখুশিমতো বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় করেন এবং হিসাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার একটি অডিট কমিটি গঠন করেন।

তদন্তে অডিট কমিটি প্রধান শিক্ষকের অর্থ নয়ছয়ের প্রমাণ পায়। অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার কোনো বৈধ হিসাব উপস্থাপন করতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। এছাড়া দাতা সদস্যদের দেওয়া ৪ লাখ টাকা হিসাব বইয়ে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে যোগদান না করা এক শিক্ষকের বেতন দেখিয়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা হিসাব বইয়ে তোলা হয়েছে। এসবসহ বিভিন্ন খাত থেকে মোট প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এবং অডিট কমিটির সদস্য নুরুল আবছার বলেন,“তিন সদস্যের অডিট কমিটি তদন্তে প্রধান শিক্ষকের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক মো. সলিমুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। গঠিত অডিট কমিটিও নিরপেক্ষ ছিল না। কমিটির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আমি আগে অভিযোগ দিয়েছিলাম, তারপরও তাকে রেখেই অডিট করা হয়েছে।”

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি শায়লা খানম বলেন,“আমার দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ের সব সভায় অংশগ্রহণ করতাম।”

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান,“তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তাদের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে