ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

শেয়ারবাজার শক্তিশালী করতে ব্যাংক খাত সংস্কারের বিকল্প নেই:তথ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুন ০৭ ১৫:২৪:৫২
শেয়ারবাজার শক্তিশালী করতে ব্যাংক খাত সংস্কারের বিকল্প নেই:তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দখলদারিত্বের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলোই শেয়ারবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে ব্যাংক খাতে সংস্কার এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি, যার কোনো বিকল্প নেই।

রোববার (৭ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খেলাপি ঋণের চিত্র বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় কারা প্রকৃত উদ্যোক্তা এবং কারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক খাতকে সুশাসনের আওতায় আনার পাশাপাশি পুঁজিবাজারকেও আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যাংকিং সুশাসনের সবচেয়ে কার্যকর প্রহরী অর্থনৈতিক সাংবাদিকরাই। ব্যাংক খাতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশের মানুষ মূলত গণমাধ্যমের মাধ্যমেই অবগত হয়েছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিতে হবে, তবে সেই স্বাধীনতার ভিত্তি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। শুধু বিশ্বাস দাবি করলেই হবে না, গণমাধ্যমকে এমন পেশাদার ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে যাতে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমের জবাবদিহিতার প্রধান মানদণ্ড হলো বস্তুনিষ্ঠতা। যে গণমাধ্যম বা সাংবাদিক যত বেশি নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর, তার বক্তব্য তত বেশি গ্রহণযোগ্যতা ও কর্তৃত্ব লাভ করে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের সংস্কারের জন্য সরকার ইতোমধ্যে একাধিক কমিশন গঠন করেছে। ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ হওয়ায় এ খাতের সংস্কারও গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকিং কমিশনের সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকই প্রধান পুঁজির উৎস হিসেবে কাজ করছে। তবে খেলাপি ঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ উদ্যোক্তা দায়িত্বশীল হলেও একটি অংশ বিভিন্ন অনিয়ম ও অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

শেয়ারবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের পাশাপাশি পুঁজিবাজারকেও শক্তিশালী অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় শুধু ব্যাংকভিত্তিক অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

সাংবাদিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ফ্লোর বা স্থানে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি মুখ্য নয়; মূল বিষয় হলো তথ্যের কাছে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা। তথ্য যেখানে থাকবে, সাংবাদিকদের সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ থাকতে হবে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নুরুন নাহার, ড. মো. এজাজুল ইসলাম, ড. মো. মাশহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইআরএফ সদস্য ওবায়দুল্লাহ রনি এবং সানাউল্লাহ সাকিব।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে