ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

নতুন বিএসইসি কমিশনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, শক্তিশালী অবস্থানে বাজার

২০২৬ জুন ০৭ ১৪:৩৬:০৪
নতুন বিএসইসি কমিশনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা, শক্তিশালী অবস্থানে বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের মন্দাভাব ও আস্থার সংকট কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্বে সাম্প্রতিক পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে, যার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ারবাজারের সূচক ও লেনদেনে।

২০১০ সালের বড় ধসের পর থেকে দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতা ও নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যে ছিল। বাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফেরেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের লোকসান আরও বেড়েছে এবং বাজার ক্রমেই দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিমত, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের শেষদিকে বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে নতুন কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা ফিরতে শুরু করেছে।

তারা আরও মনে করেন, নতুন কমিশন যদি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এবং বাজার কারসাজি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে দেশের শেয়ারবাজার আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে যেতে সক্ষম হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আরও তলানিতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সূচক ও লেনদেন উভয় ক্ষেত্রেই আরও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তাদের ধারণা। তবে তারা বিনিয়োগকারীদের গুজবনির্ভর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থেকে মৌলভিত্তিসম্পন্ন ভালো শেয়ারে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪১ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৬ দশমিক ১৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। একই দিনে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৮৭ দশমিক ১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮৪টির দাম বেড়েছে, ১৬০টির কমেছে এবং ৪৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিএসইতে দিনশেষে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫২৯ কোটি ৫ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন সিএসইতে মোট ৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩০টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৭৮টির কমেছে এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১২৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৯৭ দশমিক ২২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে এই সূচক ৮২ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।

বাজারসংশ্লিষ্টদের আশা, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে এবং বাজারে টেকসই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে