ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে বহিষ্কার—রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ০৯:০০:৫০
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে বহিষ্কার—রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি থেকে বহিষ্কারের ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখলেও দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই বহিষ্কারের আদেশ জারি হওয়াকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন রুমিন ফারহানা। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এটিই তার জীবনের নতুন অধ্যায় ও নতুন যাত্রার সূচনা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বহিষ্কারের বিষয়টি আগে থেকেই অনুমিত ছিল বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার ভোরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান। এরপর সকাল ১১টায় দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে রুমিন ফারহানাসহ নয়জনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে রুমিন ফারহানাসহ নয়জনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুমিন ফারহানা বলেন, “বহিষ্কার আদেশ আসাটা স্বাভাবিক। এটা তো হবেই। তবে যেদিন উনি চলে গেলেন, সেদিনই বহিষ্কার আদেশ আসাটা—আমি বলব, এটা আল্লাহর একটা ইশারাও বটে। যিনি আমাকে এনেছিলেন, যার ছায়ায় আমি ছিলাম, তিনি যেদিন চলে গেলেন, বিএনপির সঙ্গে আমার যাত্রাও সেদিনই শেষ হলো।”

পেশায় আইনজীবী রুমিন ফারহানা ২০১২ সালে তার বাবা অলি আহাদ মারা যাওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বাবা রাজনীতিবিদ হলেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না।

তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের আন্দোলনের সময় বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপির পক্ষে গণমাধ্যমে তার সক্রিয় উপস্থিতি নজর কাড়ে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে দেওয়া তার এক বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, এই সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়—যার পর সংসদে তীব্র হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য ও ওয়াকআউটের কারণে তিনি আলোচনায় থাকেন।

রুমিন ফারহানা জানান, খালেদা জিয়ার “আহ্বান, অভিভাবকত্ব ও ছায়ায়” তিনি টানা ১৭ বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বয়স ও অভিজ্ঞতার তুলনায় খালেদা জিয়া তাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “মৃত্যুর দিন সাধারণত কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। সেদিন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক ও বহিষ্কার আদেশ—বাংলাদেশের মানুষ এটাকে কীভাবে নেবে, আমি জানি না।”

এই বহিষ্কার আদেশই বিএনপির সঙ্গে তার রাজনৈতিক যাত্রার ‘স্পষ্ট সমাপ্তি সংকেত’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে নিজের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

রুমিন ফারহানা দাবি করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি গত ১০ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। ২০১৮ সালে ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন উকিল আব্দুস সাত্তার, যিনি পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০২৩ সালে দলের নির্দেশেই ওই আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন বলে জানান তিনি।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে তিনি বিস্মিত হন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কাজ করেছি। হঠাৎ করে জোটের প্রার্থী আসাটা আমার জন্য বিস্ময়কর ছিল।”

বিএনপি যে নয়জনকে বহিষ্কার করেছে, তারা সবাই দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শেষ হলেও এটিকে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই দেখছেন রুমিন ফারহানা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটপ্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কতটা সাড়া পাবেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের চাওয়ার কারণেই তিনি এককভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সবশেষে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে এমপি বা মন্ত্রী হওয়া একেকটা ঘটনা। কিন্তু রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা অনেক বড় বিষয়। আমি একজন রাজনীতিবিদ হতে চাই।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে