ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভারতীয় কূটনীতিকের গোপন অনুরোধ থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন—রয়টার্স সাক্ষাৎকারে জামায়াত

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ০৮:৪৩:২৭
ভারতীয় কূটনীতিকের গোপন অনুরোধ থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন—রয়টার্স সাক্ষাৎকারে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে ওই বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন ভারতীয় কূটনীতিক নিজেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বাইপাস সার্জারির পর ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমির রয়টার্সকে বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেও ভারতীয় কূটনীতিক তা করেননি। বরং বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, “আমি প্রশ্ন করেছিলাম—কেন? অনেক কূটনীতিক আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তা প্রকাশ করা হয়েছে। সমস্যা কোথায়?”

সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সবার উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়ন ছাড়া বিকল্প নেই। আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ চাই। দলগুলো একসঙ্গে এলে সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালনা সম্ভব।”

রয়টার্স এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পায়নি। তবে ভারতের সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চাই। কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার আগ্রহ আমাদের নেই।”

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতে তার অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি একটি ঐক্যবদ্ধ সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যে কোনো ঐক্যবদ্ধ সরকারের জন্য দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান হবে অভিন্ন এজেন্ডা। যে দল সর্বাধিক আসন পাবে, সেই দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন। জামায়াত সর্বাধিক আসন পেলে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নির্ধারণ করবে দল।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াত অংশীদার হলে গঠিত সরকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে “স্বস্তি বোধ” করবে না।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রয়টার্সকে বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং “এটিকে আরও জটিল করতে চান না”।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে