ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এই ৩টি ভিটামিনের অভাবে থেমে যেতে পারে শিশুর উচ্চতা!

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১০:৩৩:০৮
এই ৩টি ভিটামিনের অভাবে থেমে যেতে পারে শিশুর উচ্চতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশুর বাড়ন্ত বয়স মানেই অভিভাবকদের মনে নানা প্রশ্ন ও দুশ্চিন্তা। সবচেয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—বয়স অনুযায়ী শিশুর উচ্চতা কি ঠিকভাবে বাড়ছে? অনেক সময় দেখা যায়, বয়স বাড়লেও শিশুর উচ্চতায় তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। এর পেছনে জেনেটিক কারণ যেমন দায়ী হতে পারে, তেমনি বড় ভূমিকা রাখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি।

চিকিৎসকদের মতে, শিশুর হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও শারীরিক উন্নয়নের জন্য সুষম পুষ্টি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাব হলে শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির গতি স্পষ্টভাবে কমে যেতে পারে।

শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ভিটামিন ডি। এটি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সহায়তা করে, যা হাড় শক্ত ও সুগঠিত করতে অপরিহার্য। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শিশুদের রিকেটসের মতো রোগ দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্বাভাবিক লম্বা হওয়া ব্যাহত হয়।

সূর্যের আলো ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস। পাশাপাশি ডিমের কুসুম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, স্যামন ও টুনার মতো চর্বিযুক্ত মাছ থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন এ কোষ বিভাজন ও নতুন কোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর সামগ্রিক শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি উচ্চতা বৃদ্ধিতেও এই ভিটামিন প্রয়োজনীয়। ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুর বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।গাজর, মিষ্টি আলু, পেঁপে, ডিম, দুধ এবং বিভিন্ন সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন এ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

ভিটামিন কে হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং শরীরে ক্যালসিয়ামের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে, যা শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।পালংশাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি ছাড়াও দুধে ভিটামিন কে পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু এই তিনটি ভিটামিনই নয়—ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও প্রোটিনের অভাবেও শিশুর উচ্চতা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে নাও পারে। তাই শিশুর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ ও হালকা ব্যায়াম শিশুর হাড়ের বৃদ্ধি ও শারীরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদি দীর্ঘদিন ধরে শিশুর উচ্চতা বয়স অনুযায়ী না বাড়ে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্তপরীক্ষা ও অন্যান্য শারীরিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।

সঠিক পুষ্টি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সচেতন অভিভাবকত্বই শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর



রে