ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

‘আশার আলো’ সরকারি চাকরিজীবীদের

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ০৯:৪৭:২৩
‘আশার আলো’ সরকারি চাকরিজীবীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : পে কমিশনের বেতন বাড়ানোর সুপারিশে আশার আলো দেখছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। অন্যদিকে, বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে—এই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতের কর্মীরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাড়তি ব্যয়ের জোগান দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো না গেলে সুফলের চেয়ে ভোগান্তিই বেশি হতে পারে।

আর মাত্র দুই বছর পর অবসরে যাবেন রাষ্ট্রের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জমির উদ্দিন শেখ। বছরের পর বছর উচ্চমূল্যের বাজারে সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হলেও চাকরিজীবনের শেষ প্রান্তে এসে বেতন বাড়ার খবরে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন তিনি।

সময় সংবাদকে জমির উদ্দিন শেখ বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের বেতন, কোচিং ফি, মা-বাবাসহ পুরো পরিবার নিয়ে চলতে গিয়ে পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সরকার বেতন বাড়ানোর কথা বললেও কবে থেকে কার্যকর হবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই।

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন আড়াই গুণ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ধাপে দেড় গুণ বাড়িয়ে বর্তমান ৭৮ হাজার টাকার পরিবর্তে এক লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী। একই সঙ্গে পেনশন ও বৈশাখি ভাতার পরিমাণও বাড়বে।

তবে বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় যদি আবার বেড়ে যায়, তাহলে এই বাড়তি আয়ের সুফল টেকসই হবে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, বর্তমানে যে পেনশন পাওয়া যায়, তা দিয়ে মাসের অর্ধেকও চলা কঠিন। পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে, তবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সেই সুফল স্থায়ী হবে না।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যেই যখন এমন দ্বিধা, তখন দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান জুড়ে থাকা বেসরকারি খাতের কর্মীদের উদ্বেগ আরও গভীর। তাঁদের আশঙ্কা, সরকারি বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি বেড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এমনিতেই অনেক বেড়ে গেছে। নতুন করে দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি খাতে কর্মরতদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

বেসরকারি চাকরিজীবীরা বলছেন, এই খাতের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামো বা ভর্তুকির মতো সমন্বিত নীতিমালা প্রয়োজন, যাতে তারা ন্যায্যভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ভোগ্যপণ্যের বাজার সহনীয় রাখা জরুরি। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, দেশীয় ও বিদেশি কোনো খাতেই উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হচ্ছে না। উৎপাদন কার্যক্রমে গতি কম, রাজস্ব আদায়ও প্রত্যাশার তুলনায় কম। এ অবস্থায় বেতন কাঠামো বৃদ্ধি ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে