ঢাকা, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

তাসনিম জারার নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ

২০২৬ জানুয়ারি ২৪ ১৮:৪৪:৩৩
তাসনিম জারার নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আলোচিত চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা এই প্রার্থী শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ‘ফুটবল’ প্রতীকের এই প্রার্থী সেখানে ঢাকা-৯ এলাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য জনপদে রূপান্তরের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

ইশতেহারে তাসনিম জারা নাগরিক বঞ্চনার অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “ঢাকা-৯ এই শহরের প্রাণ। অথচ আমাদের সঙ্গেই বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। আমরা গুলশান-বনানীর মতোই ট্যাক্স ও বিল দেই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির। ভোটের সময় নেতারা আসেন, ভোট নেন, এরপর উধাও হয়ে যান। রাষ্ট্র আমাদের কেবল রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবেই দেখে।”

তিনি আরও লেখেন, “আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। ঢাকা-৯ কে অবহেলার দিন শেষ। আমরা সমান ট্যাক্স দিই, আমাদের অধিকারও সমান। এবার আমাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে নেবো।”

ইশতেহারে গ্যাস সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা ও জলাবদ্ধতাকে ঢাকা-৯ এলাকার বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, “প্রতি মাসে গ্যাসের বিল দিচ্ছি, কিন্তু চুলা জ্বালালে বের হয় বাতাস। গ্যাস না থাকলেও বিল দিতে হচ্ছে—এটি একধরনের প্রতারণা। এর সুযোগে এলপিজির দাম বাড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে।”

সমাধান হিসেবে তিনি ‘No Service, No Bill’ নীতির কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, সংসদে প্রথম কাজ হবে সেবা না দিলে বিল নেই—এমন আইন প্রস্তাব উত্থাপন করা। তিতাস গ্যাস সরবরাহ করতে না পারলে বিল আদায় করতে পারবে না। পাশাপাশি ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি বলেন, রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। ওয়াসা বা সিটি করপোরেশন যে সংস্থাই রাস্তা কাটবে, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, নচেৎ ঠিকাদারকে জরিমানা গুনতে হবে।

ঢাকা-৯ এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ‘নিষ্ঠুর কৌতুক’ আখ্যা দিয়ে তাসনিম জারা বলেন, সাত থেকে আট লাখ মানুষের জন্য মাত্র একটি বড় হাসপাতাল—মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল—চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ডাক্তার-নার্সরা অতিরিক্ত চাপের মুখে কাজ করছেন, রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না।

সমাধান হিসেবে তিনি মুগদা হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি পাড়ার ক্লিনিকগুলো আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি ‘স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড’ গঠনের ঘোষণা দেন, যা সারা বছর ড্রেন পরিষ্কার ও লার্ভা নিধনে কাজ করবে।

ইশতেহারে এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, “সন্ধ্যার পর অলিগলিতে হাঁটতে মা-বোনেরা ভয় পান। যে শহর নারীকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে শহর উন্নত হতে পারে না।”

তিনি জানান, স্কুল-কলেজ ও গার্মেন্টস এলাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা ও উচ্চক্ষমতার ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসার আওতায় আনা হবে, তবে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তাসনিম জারা বলেন, অপরিকল্পিত কারিকুলাম ও ভর্তি বাণিজ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, স্কুল ভর্তিতে এমপির কোনো সুপারিশ বা কোটা থাকবে না; মেধা ও স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড।

স্কুলগুলোতে আধুনিক সায়েন্স ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব চালুর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘সিডিং ফান্ড’, জামানত ছাড়া ঋণের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তাসনিম জারা। অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষার বিষয়েও সংসদে কথা বলার অঙ্গীকার করেন তিনি।

জবাবদিহিতার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে এলাকায় স্থায়ী অফিস চালু করবেন, যেখানে অভিযোগের অগ্রগতি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।

শেষে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, “আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই। এটি কোনো ফাঁকা ইশতেহার নয়, এটি আপনাদের সঙ্গে আমার চুক্তি। ঢাকা-৯ এর ভাগ্য বদলাতে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দিন। আপনারা আমার শক্তি হোন, আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হব।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে