ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

তামহা সিকিউরিটিজের ৮৭ কোটি টাকা লুট: এবার মাঠে অর্থ মন্ত্রণালয়

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ২২:৪৮:৫৩
তামহা সিকিউরিটিজের ৮৭ কোটি টাকা লুট: এবার মাঠে অর্থ মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের অন্যতম আলোচিত জালিয়াতির ঘটনা তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। ব্রোকারেজ হাউজটির মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক বিনিয়োগকারীর প্রায় ৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা তাঁদের জমানো অর্থ ফেরত পেতে চার বছরের বেশি সময় ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি-কে একটি চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত লুণ্ঠিত অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই আইনি লড়াইয়ের মূলে রয়েছেন মো. আজিজার রহমান নামের একজন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী। তাঁর অভিযোগ, তামহা সিকিউরিটিজ তাঁর অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁর দুটি বিও হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। তিনি প্রতিকার চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিলে মন্ত্রণালয় বিএসইসি-কে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে বিএসইসি এখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। ভুক্তভোগী আজিজার রহমান জানান, তাঁর পাওনা টাকার একটি অংশ ডিএসই ফেরত দিলেও এখনো প্রায় ৪৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়ে গেছে, যা উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে ধরণা দিচ্ছেন।

তামহা সিকিউরিটিজের জালিয়াতির ধরণ ছিল অত্যন্ত অভিনব ও ভয়ঙ্কর। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ দুটি ভিন্ন ‘ব্যাক অফিস সফটওয়্যার’ ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারণা করেছে। এর মধ্যে একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জালিয়াতি করে তৈরি করা ভুয়া পোর্টফোলিও স্টেটমেন্ট বা বিবরণী দেওয়া হতো, যাতে তাঁরা ভাবতেন তাঁদের শেয়ার বা ক্যাশ ব্যালেন্স ঠিক আছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে অন্য একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের অজান্তেই শেয়ার বিক্রি করে টাকা সরিয়ে নেওয়া হতো। ২০২১ সালের এক তদন্তে দেখা যায়, গ্রাহকদের মোট ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে এই বিশাল কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর বিএসইসি তামহা সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে দেয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হারুনুর রশিদসহ সহযোগীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এই আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যেই এমডিসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরণের জালিয়াতি শেয়ারবাজারে আস্থার সংকটের প্রধান কারণ। দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

বর্তমান অর্থবছরের এই নাজুক সময়ে বিনিয়োগকারীদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া বাজারের তারল্য সংকটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০০৫ সালে ডিএসই-তে নিবন্ধিত হওয়া তামহা সিকিউরিটিজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি জবাবদিহিতার আওতায় না আসে, তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকিই বৃথা হয়ে পড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সরাসরি হস্তক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বিএসইসি ও ডিএসই কত দ্রুত এই অর্থ উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের হাতে পৌঁছে দিতে পারে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে