ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণে ১০ বছরের বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ২১:১১:০৫
জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণে ১০ বছরের বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণের জন্য নতুন বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা ঘোষণা করেছে। এই সুবিধার আওতায় ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছরের মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে। ডাউন পেমেন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ শতাংশ এবং প্রথম দুই বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড।

নতুন নির্দেশনা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে।

প্রতিটি ব্যাংক তাদের ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট কেসের গুণগত মান বিবেচনা করে আবেদন পর্যালোচনা করবে। নিয়ম অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থগিত সুদ ও অনারোপিত সুদ আলাদা ব্লকড হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর মূল ঋণের ওপর তিন শতাংশ ডাউন পেমেন্টের শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

ডাউন পেমেন্টের মধ্যে ১.৫ শতাংশ আবেদন সময় পরিশোধ করতে হবে এবং বাকি ১.৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে গ্রাহক ঋণের বিপরীতে মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ করবেন। ব্লকড সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে আলাদা কিস্তিতে সুদবিহীনভাবে পরিশোধ করা সম্ভব।

এর আগে বিআরপিডি সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল করা ঋণের জন্যও নতুন বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা রাখা হয়েছে। বিদ্যমান ঋণে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টের শর্তে মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর বৃদ্ধি করা যাবে। এক শতাংশ পুনর্গঠন আবেদনকালে, বাকি এক শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, বিশেষ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠিত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দিতে হবে না। ঋণ কিস্তি মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে। কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ যথানিয়মে শ্রেণিকৃত হবে।

এছাড়া ব্যাংকগুলোকে অশ্রেণিকৃত ঋণমানের জন্য প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে এবং এর সিদ্ধান্তে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। জালিয়াতি বা ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধা পাবেন না।

বিশেষ পুনঃতফসিল কার্যকর হওয়ার পর ডাউন পেমেন্ট বা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল বাতিল করতে পারবে এবং ঋণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঋণ আর কোনো পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের আওতায় আসবে না।

আবেদন করতে হলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট নগদে জমা দিয়ে ব্যাংকের কাছে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে ব্যাংক এটি নিষ্পত্তি করবে। বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা।

ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা তাদের প্রদত্ত বিনিয়োগের ওপর প্রযোজ্য হবে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে