ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

নির্মল চেহারা, লুকানো ধন: ভিক্ষুক কোটিপতির চাঞ্চল্যকর গল্প

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৫:৪৫:৫৯
নির্মল চেহারা, লুকানো ধন: ভিক্ষুক কোটিপতির চাঞ্চল্যকর গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের সরাফা বাজারে বসে ভিক্ষা করতেন মাঙ্গিলাল নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার ঠেলাগাড়িতে বসে, কাঁধে ব্যাকপ্যাক ও জুতার ভেতরে অর্থ ঢুকিয়ে ভিক্ষা করতেন। প্রথম নজরে মনে হতো, তিনি একেবারে নিঃস্ব ও অসহায়। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কোটিপতি।

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের সময় এই তথ্য সামনে আসে। ইন্দোরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার লক্ষ্যে শনিবার গভীর রাতে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে সরাফা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে মাঙ্গিলালকে সাধারণ ভিক্ষুক হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর বাস্তবতা। বছরের পর বছর ধরে তিনি ‘নীরব ভিক্ষা’ কৌশল রপ্ত করেছিলেন। কারও কাছে হাত পাততেন না; শুধু নিজের ঠেলাগাড়িতে বসে থাকতেন। মানুষের সহানুভূতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিলত দান। ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

তবে আসল আয়ের পথ শুরু হতো সন্ধ্যার পর। তদন্তে জানা গেছে, তিনি ভিক্ষা থেকে পাওয়া অর্থ বিনিয়োগ করতেন। সরাফা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য টাকা ধার দিতেন এবং সুদ আদায় করতেন। কর্মকর্তাদের ধারণা, তিনি প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা বাজারে ধার দিয়েছেন এবং প্রতিদিন ১ থেকে ২ হাজার টাকা আয় করতেন।

যাকে নিঃস্ব মনে করা হতো, তিনি বাস্তবে শহরের ভালো এলাকায় তিনটি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন, বাকি দুটি একতলা। এছাড়া তার রয়েছে তিনটি অটোরিকশা (ভাড়া দিয়ে চালানো হয়) এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি, যা ভাড়া দেওয়া হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (পিএমএওয়াই) আওতায় একটি ১ বিএইচকে ফ্ল্যাটও পেয়েছেন, যদিও তার আগেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা দীনেশ মিশ্র জানান, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়িনীর সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির বিস্তারিত তদন্ত চলছে। যারা তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইন্দোরের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানে এই ঘটনা এক অপ্রত্যাশিত অধ্যায় যোগ করেছে। সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, ইন্দোরে প্রায় ৬,৫০০ ভিক্ষুক রয়েছেন। এর মধ্যে ৪,৫০০ জন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ভিক্ষা ছাড়তে সম্মত হয়েছেন, ১,৬০০ জন উদ্ধার করে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে