ঢাকা, শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

লোকসানি ১১ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চেয়েছে বিএসইসি

২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২৩:২২:৩৬
লোকসানি ১১ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা চেয়েছে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক লোকসান, লেনদেন স্থবিরতা ও আর্থিক চাপের মুখে থাকা ১১টি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা (বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংকট মোকাবিলা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসায় লোকসান ও কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে।

এই ১১টি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৬টি ব্রোকারেজ হাউজ, ৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ১টি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো— প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

এছাড়া নির্দেশনার আওতায় থাকা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো হলো— আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির তালিকায় রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

জানা গেছে, এর আগেও গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা জমা না দেওয়ায় বিষয়টি কমিশনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সাবসিডিয়ারি ও অ্যাসোসিয়েট কোম্পানিকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র জমা দেয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বিশেষ করে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিকল্পনার ঘাটতি বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এ কারণে চিঠি জারির তারিখ থেকে পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র কমিশনে দাখিল করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা মানা না হলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক বা বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিএসইসি তার নজরদারি বাড়িয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ারবাজার পরিচালনায় ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বিনিয়োগকারী ও সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার ওপর। এ কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে