ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ঘোমটা খুলতেই চমক! বাসরঘরে ‘ভুল কনে’—অতঃপর...

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১১:৫৯:১৪
ঘোমটা খুলতেই চমক! বাসরঘরে ‘ভুল কনে’—অতঃপর...

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের পিঁড়িতে হাসিমুখে বসেছিলেন বর। তবে বাসর ঘরে ঢুকেই যেন সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। বরের অভিযোগ—যে পাত্রীকে আগে দেখে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন, ঘোমটা খোলার পর দেখা যায় তিনি অন্য একজন। কনে বদলের এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত বরকে যেতে হয় কারাগারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ আগস্ট ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের সঙ্গে রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বর ও তার পরিবার কনে বদলের অভিযোগ তোলে।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ একাধিকবার আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এর জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে পাল্টা মামলা করেন।

উভয় পক্ষের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বরের মামা বাদল সাংবাদিকদের জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী দেখা হচ্ছিল। জুলাইয়ের শেষ দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে একটি মেয়েকে দেখানো হয়। পাত্র ও স্বজনদের পছন্দ হলে বিষয়টি ঘটককে জানানো হয়। পরবর্তীতে মেয়েপক্ষ ছেলেপক্ষের বাড়িতে এসে নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায়।

তিনি আরও জানান, রায়হানের দুলাভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী হওয়ায় দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১ আগস্ট রাত ১১টায় বরযাত্রীরা মেয়ের বাড়িতে যান এবং ভোর ৪টার দিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাড়ি ফেরেন।

বাদলের অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে কনে পরিবর্তনের বিষয়টি বোঝা যায়নি। তবে বাসর রাতে কনে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারেন—তিনি যাকে বিয়ে করেছেন, তিনি সেই মেয়েটি নন যাকে আগে দেখানো হয়েছিল। পরদিন ২ আগস্ট কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে প্রতারণার কারণ জানতে চাওয়া হয়। তার দাবি, ঘটক ও কনের বাবা পরিকল্পিতভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কনের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, “আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেজো মেয়েকে ছেলেপক্ষ আমাদের বাড়িতে এসেই দেখে গেছে। বিয়েতে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। এমন অবস্থায় কনে বদলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য।”

তিনি দাবি করেন, এটি একটি সাজানো নাটক। বিয়ের পর ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে সময় চাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তার মেয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।

ঘটক মোতালেবও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ভুল মেয়ে দেখাননি। বাড়িতেই পাত্রী দেখানো হয়েছিল এবং পরে উভয় পক্ষ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে ছেলেপক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, ছেলেপক্ষের অভিযোগ—মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। প্রথম দিকে মীমাংসার আশায় বর জামিনে ছিলেন। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় মামলাটি এখন বিচারাধীন। আদালতের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে