ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ব্যাংক নামছে ভোটের ময়দানে, তবে সিএসআর টাকা নিয়ে অস্বস্তি

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ২১:০৪:৪১
ব্যাংক নামছে ভোটের ময়দানে, তবে সিএসআর টাকা নিয়ে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকনির্দেশনার পর জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরাসরি মাঠে নেমেছে ব্যাংকগুলো। ইতিমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাংক শাখার সামনে ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো শুরু হয়েছে। তবে এই প্রচারণায় কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মৌখিক নির্দেশনা ব্যাংক খাতে নতুন করে অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো লিখিত প্রজ্ঞাপন বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ছাড়াই এনজিওদের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসচেতনতা কার্যক্রমে সিএসআর অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে—এমন অভিযোগ করছেন ব্যাংকাররা। তাঁদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে এই ব্যয় নিয়ে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে মৌখিক নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাঁরা দ্বিধায় রয়েছেন।

মতিঝিল, দিলকুশা ও পল্টন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ব্যাংক শাখার প্রবেশমুখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে। কোথাও সরাসরি ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, আবার কোথাও ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এই ধরনের স্লোগানের মাধ্যমে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের সিএসআর–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গভর্নর মৌখিকভাবে নির্দেশ দিলেও প্রজ্ঞাপন না থাকায় তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তাঁদের মতে, এখন সিএসআর তহবিল ব্যয় করলে ভবিষ্যতে সেটি রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।

ব্যাংকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)দের বৈঠকে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সিএসআর অর্থ ব্যবহার করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা জোরদারের নির্দেশ দেন। ওই সভায় ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনসহ একাধিক এমডি বক্তব্য দেন।

সভায় গভর্নরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে কয়েকজন ব্যাংকার জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা সবার দায়িত্ব। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে মানুষকে জানাতে হবে। এ জন্য কোনো এনজিও যদি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়, তাহলে ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল থেকে সহযোগিতা দিতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে রাজধানীর সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের একাধিক শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় দুটি করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যানার টাঙানোর নির্দেশনা এসেছে। পাশাপাশি যেসব এনজিও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে, তাদের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তিনি জানান, এবিবিও এই উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা দেবে।

মাসরুর আরেফিন বলেন, এটি একটি অন্তর্বর্তী ও সংস্কারমুখী সরকার। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জনগণকে সংস্কারের পক্ষে সচেতন করাটা ব্যাংকগুলোরও দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সংস্কার চায়—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে প্রথম গণভোট হয়। দ্বিতীয়টি হয় ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে। সর্বশেষ গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে