ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

২০২৫ সালে যেসব দেশে বোমা ফেলেছেন ট্রাম্প

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২৩:১১:০৪
২০২৫ সালে যেসব দেশে বোমা ফেলেছেন ট্রাম্প

আন্তজার্তিক ডেস্ক: ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করলেও তাঁর শাসনামলের প্রথম বছরটি ছিল চরম সামরিক তৎপরতায় ঠাসা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী বছরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্তত সাতটি দেশে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা 'এসিএলইডি' জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন দেশে মোট ৬২২টি বোমা হামলা ও ড্রোন আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, যার সর্বশেষ শিকার হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা।

নতুন বছরের শুরুতেই ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ওই কেন্দ্রটি মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন অভিযানে অন্তত ৯৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার এই সামরিক পদক্ষেপকে সরাসরি তাদের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের একটি চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছে।

আফ্রিকাতেও মার্কিন সামরিক শক্তির প্রয়োগ ছিল নজিরবিহীন। গত বছরের বড়দিনে নাইজেরিয়ার সকোটো রাজ্যে আইএসআইএস বিরোধী অভিযানের নামে প্রথমবারের মতো সরাসরি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যা ট্রাম্পের খ্রিষ্টান সমর্থকদের সন্তুষ্ট করার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া সোমালিয়ায় আল-শাবাব নির্মূলের দোহাই দিয়ে ১১১টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এসব হামলায় বহু শিশুসহ অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব দেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘প্রতিশোধের নীতি’ ছিল অত্যন্ত কঠোর। ডিসেম্বরে সিরিয়ার ৭০টি আইএসআইএস ঘাঁটিতে ‘হকআই’ নামক অপারেশন চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। এছাড়া ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের সময় ২২ জুন ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী, যার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক বছর পিছিয়ে গেছে বলে দাবি পেন্টাগনের। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের দমনে মার্চ মাস থেকে প্রায় প্রতিদিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যাতে কয়েকশ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।

ইরাকেও যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। মার্চ মাসে আল-আনবার প্রদেশে এক হামলায় আইএসআইএস নেতা আবদুল্লাহ আবু খাদিজাকে হত্যার পর ট্রাম্প একে ‘শান্তির জন্য শক্তি প্রয়োগ’ বলে আখ্যা দেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসম্মুখে ট্রাম্প যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিলেও বাস্তবে তাঁর প্রশাসনের অধীনে মার্কিন সামরিক অভিযানের পরিধি ও ভয়াবহতা অতীতের যে কোনো সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে