×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দিল্লিকে একক করিডর দিতে নারাজ ঢাকা

২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১১:০৫:৫৩
দিল্লিকে একক করিডর দিতে নারাজ ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে ভারতের এই দ্বিপক্ষীয় প্রস্তাবে এখনো সরাসরি সম্মতি দেয়নি ঢাকা। এককভাবে ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেওয়ার পরিবর্তে নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করে একটি বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তোলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে বাংলাদেশের পার্বতীপুরের ওপর দিয়ে একটি ৭৬৫ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করতে চায় দেশটি। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে লাইনটির সম্ভাব্য দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য—আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এসব রাজ্যের সরাসরি যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন করতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি।

প্রস্তাবিত লাইনটির সক্ষমতা হবে ৭৬৫ কেভি এবং বাংলাদেশের ভেতরে এর দৈর্ঘ্য হতে পারে ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার। বিনিময়ে বাংলাদেশও প্রয়োজন অনুযায়ী ওই সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছে ভারত।

গত ৯ ও ১০ অক্টোবর ভারতের মুম্বাইয়ে বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ সচিবদের আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় তুলে ধরে ভারত।

এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে দুই দেশের বিদ্যুৎ সচিব পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছিল। তবে সে সময় প্রস্তাবটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৬ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রস্তাবটিকে শুধু ভারতের একক স্বার্থের জায়গা থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশের অবস্থান হলো, শুধু ভারতের বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য নিজস্ব ভূখণ্ডে আলাদা করিডোর দেওয়ার পরিবর্তে নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড গড়ে তোলা অধিক কার্যকর হতে পারে।

এ ধরনের ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানি ও রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি কোনো একটি দেশের স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের বিবেচনায়, ভৌগোলিক অবস্থান ও নিজস্ব ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়টি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব এবং বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ বাড়তে পারে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশেরও বিদ্যুৎ আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজার আগ্রহ রয়েছে। ফলে দুই দেশের স্বার্থের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানকে যুক্ত করে বৃহত্তর আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড নিয়ে ভারত কী অবস্থান নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দ্বিপক্ষীয় বিদ্যুৎ করিডোরের পরিবর্তে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে