×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইসলামে ৪ ধরনের উপহার দেওয়া-নেওয়া নিষিদ্ধ

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১২:১৫:৩২
ইসলামে ৪ ধরনের উপহার দেওয়া-নেওয়া নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হাদিয়া বা উপহার আদান-প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। এটি কেবল কোনো বস্তুগত বিনিময় নয়, বরং হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের এক আত্মিক সেতুবন্ধন। তবে উপহারের পেছনে যদি কোনো অসৎ উদ্দেশ্য, অন্যায় সুবিধা হাসিল কিংবা পদমর্যাদার অপব্যবহার জড়িয়ে থাকে, তবে সেই হাদিয়া আর বৈধ থাকে না; তা ঘুষ বা সুদের মতো মহাপাপে পরিণত হয়। সম্প্রতি ইসলামি বিধানে উপহার লেনদেনের ফজিলত এবং যেসব ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে নিঃস্বার্থভাবে ব্যয়ের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে মহান আল্লাহ সূরা আল-বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর পথে যারা নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শিষ জন্মায় এবং প্রতিটি শিষে থাকে একশত দানা।”

অন্যদিকে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এক হাদিসে ইরশাদ করেছেন, “তোমরা একে অপরকে উপহার দাও, তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে।” তবে ইসলামে হাদিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ; প্রভাব বিস্তার বা স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার নয়।

যেসব ক্ষেত্রে হাদিয়া নেওয়া বা দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:

১. সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক পদের সুবাদে উপহার গ্রহণ:

দায়িত্বশীল বা সরকারি পদে থাকা কোনো ব্যক্তি তার পদের সুযোগ নিয়ে উপহার গ্রহণ করলে তা সরাসরি ‘ঘুষ’ বা অবৈধ সুবিধা হিসেবে গণ্য হবে।হযরত আবু হুমাইদ আস-সায়েদী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—এক ব্যক্তি সদকা সংগ্রহের দায়িত্ব পালন শেষে এসে কিছু সম্পদকে নিজের হাদিয়া হিসেবে দাবি করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সে যদি তার মা-বাবার ঘরে বসে থাকত, তাহলেও কি এই উপহার পেত?” অর্থাৎ পদের প্রভাবে পাওয়া কোনো উপহারই হাদিয়া নয়, তা আমানতের খেয়ানত ও ঘুষ।

২. সুপারিশ বা উপকারের বিনিময়ে উপহার:

কাউকে সাহায্য করা বা কোনো বিষয়ের জন্য সুপারিশের বিনিময়ে কোনো হাদিয়া বা উপঢৌকন গ্রহণ করা নিষিদ্ধ।হযরত আবু উমামা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “কেউ যদি তার কোনো ভাইয়ের জন্য সুপারিশ করার কারণে উপহার পায় এবং তা গ্রহণ করে, তবে সে যেন সুদের এক বিশাল দরজায় প্রবেশ করল।”

৩. ঋণের কারণে অতিরিক্ত সুবিধা বা উপহার গ্রহণ:

বিপদগ্রস্ত মানুষকে ঋণ দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে একটি বড় নেক আমল। কিন্তু ঋণ দেওয়ার শর্ত হিসেবে বা ঋণের খাতিরে গ্রহীতার কাছ থেকে কোনো বাড়তি সুবিধা কিংবা উপহার নেওয়া সুদের সমতুল্য।

সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে যেকোনো ধরনের উপহার নেওয়ার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

৪. সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য করে উপহার দেওয়া:

সন্তানদের উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে মা-বাবার ইনসাফ বা ন্যায়বিচার বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া এক সন্তানকে বেশি সম্পত্তি বা দামি উপহার দিয়ে অন্য সন্তানকে বঞ্চিত করা হারাম এবং এটি পরিবারে অশান্তি ও হিংসার জন্ম দেয়।

হযরত নুমান ইবনে বশীর (রা.)-এর পিতা তাকে বিশেষ কিছু দান করার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি জানতে পেরে জিজ্ঞেস করেন, অন্য সন্তানদেরও সমান দান করা হয়েছে কি না। উত্তর ‘না’ আসায় রাসূল (সা.) নির্দেশ দেন, “আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো।”

ইসলাম উপহার আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করেছে ভালোবাসার বন্ধন সুদৃঢ় করার জন্য, কোনো দুর্নীতি বা অন্যায়ের মাধ্যম হিসেবে নয়। তাই হাদিয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুমিনের নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং শরিয়াহর সীমারেখা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে