×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

‘জেড’ ক্যাটাগরির লাল তালিকায় আরও ৪ কোম্পানি

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:১১:৫৯
‘জেড’ ক্যাটাগরির লাল তালিকায় আরও ৪ কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে আবারও ধাক্কা খেল বেশ কয়েকটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি। টানা ডিভিডেন্ড দিতে না পারার ব্যর্থতায় এবার কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছে চার প্রতিষ্ঠান। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিয়মানুযায়ী, ভালো মানের ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে টেনে সরাসরি নিম্নমানের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পড়েছেন এসব কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা।

ক্যাটাগরি অবনমন বা ডিমোশন পাওয়া এই চার প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস), ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন), দেশবন্ধু পলিমার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক মন্দা, তারল্যসংকট এবং কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের খালি হাতে ফেরাতে বাধ্য হয় তারা। ডিএসইর অভ্যন্তরীণ তদারকি ও ক্যাটাগরি হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় এই ডিমোশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এসব শেয়ারের লেনদেন সুবিধায়। ডিএসইর প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা আর কোনো ধরনের মার্জিন ঋণ সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ, নিজস্ব নগদ অর্থ ছাড়া কোনো ঋণ বা লেভারেজ নিয়ে এসব শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ করার সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্জিন ঋণ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে এসব কোম্পানির শেয়ারের তারল্য বা লেনদেনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ঋণ সুবিধা না থাকায় সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়বে, যা শেয়ারগুলোর বাজারদরে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, সরকারি বড় প্রতিষ্ঠান আইসিবি-র মতো হেভিওয়েট শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে যাওয়াকে পুরো বাজারের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিভিডেন্ড দিতে না পারার মূল নেপথ্যে রয়েছে কোম্পানিগুলোর তীব্র আর্থিক সংকট ও জমানো লোকসান। ব্যবসায়িক আয়ের বড় একটি অংশ দেনা ও সুদ পরিশোধেই চলে যাওয়ায় নিট মুনাফার মুখ দেখতে পারছে না অনেকেই। ফলে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ডিএসই কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষা এবং বাজার সুশাসন বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ক্যাটাগরি অবনমনের ঘটনায় শেয়ারবাজারে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় সামগ্রিক বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে লোকসানি কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা পুনরুদ্ধার এবং পুনরায় লাভজনক ধারায় ফিরিয়ে এনে ভালো ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে