×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাস্তার কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের পেছনে রয়েছে যে বিশেষ প্রবণতা

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৭:১৯:৪৩
রাস্তার কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের পেছনে রয়েছে যে বিশেষ প্রবণতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাস্তার কুকুরের একটি দলকে প্রায়ই নির্দিষ্ট গলি বা এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ওই এলাকার নিয়মিত বাসিন্দা কিংবা পরিচিত মানুষের উপস্থিতিতে তারা সাধারণত তেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় না। কিন্তু অপরিচিত কেউ এলাকায় প্রবেশ করলেই শুরু হয় ঘেউ ঘেউ, কখনো দলবদ্ধভাবে তেড়ে আসার ঘটনাও ঘটে।

কুকুরের এমন আচরণের পেছনে রয়েছে নিজেদের বিচরণক্ষেত্র, খাবারের উৎস ও দলের সদস্যদের সুরক্ষার প্রবণতা। পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে তাদের অতীত অভিজ্ঞতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টাইমসপেটসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাস্তার কুকুর সাধারণত খাবারের সহজলভ্যতাকে কেন্দ্র করে নিজেদের বিচরণক্ষেত্র তৈরি করে। খাবারের দোকান, মাছের বাজার, উচ্ছিষ্ট ফেলার স্থান কিংবা নিয়মিত খাবার পাওয়া যায়—এমন জায়গা তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব স্থানের আশপাশে তারা বেশি সময় কাটায়।

কুকুর বিভিন্ন স্থানে প্রস্রাবের মাধ্যমে গন্ধের চিহ্ন রেখে নিজেদের বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে। গলির মোড়, দেয়াল কিংবা খুঁটির মতো জায়গায় এ ধরনের চিহ্ন রাখার পাশাপাশি তারা নিয়মিত এলাকা ঘুরে দেখে।

বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার দিকে তাদের চলাচল বেশি চোখে পড়ে। এভাবে নিজেদের পরিচিত এলাকায় অন্য প্রাণী বা অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি সম্পর্কে তারা সতর্ক থাকে।

একই এলাকার বাসিন্দা, দোকানি কিংবা নিয়মিত যাতায়াত করা মানুষকে কুকুর গন্ধ, চেহারা ও চলাফেরার ধরন দেখে চিনতে পারে। ফলে এসব মানুষের উপস্থিতিকে তারা সাধারণত নতুন কোনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে না।

অন্যদিকে, অপরিচিত কেউ এলাকায় প্রবেশ করলে কুকুর সতর্ক হয়ে উঠতে পারে। তখন ঘেউ ঘেউ করা কিংবা দলবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার মাধ্যমে নিজেদের এলাকা রক্ষার চেষ্টা করে।

একটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে সতর্ক করলে দলের অন্য সদস্যরাও তাতে সাড়া দিতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি কুকুর একসঙ্গে চিৎকার শুরু করে। বাইরে থেকে বিষয়টি আক্রমণাত্মক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি তাদের দলগত সতর্কতার আচরণ।

কুকুরের আচরণ শুধু এলাকা রক্ষার প্রবণতার ওপর নির্ভর করে না। মানুষের সঙ্গে তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

ছোটবেলা থেকে মানুষের কাছ থেকে খাবার ও যত্ন পাওয়া কুকুর সাধারণত মানুষের উপস্থিতিতে বেশি অভ্যস্ত হয়। অন্যদিকে, মানুষের তাড়া করা, মারধর কিংবা ভয় দেখানোর অভিজ্ঞতা থাকলে তারা অপরিচিত মানুষের প্রতি বেশি সতর্ক বা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।

এ ছাড়া খাবারের উৎস পরিবর্তন, নতুন বাচ্চার জন্ম, দলের কোনো সদস্য আহত হওয়া কিংবা হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও কুকুরের আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই আগে শান্ত থাকা কোনো কুকুর হঠাৎ বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কোনো কুকুর অস্বাভাবিকভাবে তেড়ে এলে তাকে উসকানি দেওয়া, তাড়া করা কিংবা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। কামড়ানোর ঝুঁকি থাকলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে স্থানীয় প্রাণিকল্যাণ কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, রাস্তার কুকুরের অপরিচিত মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণের পেছনে এলাকা ও খাবার রক্ষার প্রবণতা, দলগত সতর্কতা এবং মানুষের সঙ্গে অতীত অভিজ্ঞতা—সবকিছুই ভূমিকা রাখতে পারে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর

লাইফ স্টাইল - এর সব খবর

উ
প
রে