×
ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব, পাঁচ শিল্পাঞ্চলে বন্ধ ৩১৮ কারখানা

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১০:২৫:০৭
শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব, পাঁচ শিল্পাঞ্চলে বন্ধ ৩১৮ কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিতে দেশের কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা মহানগর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে কাজ না করেই বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দেওয়া তথ্যের বরাতে এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট পোশাক কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু রয়েছে। শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি কারখানা।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় মোট ৩২০টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে ৬৮টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকায় মোট ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে। এ দুই এলাকায় কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ।

দাবি আদায়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন। এতে কিছু এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন মালিকপক্ষ।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠে রয়েছে।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা করছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে শ্রম অসন্তোষের মধ্যে রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এসব এলাকায় বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কথা রয়েছে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে