×
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাতে পানি খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বড় ভুল ধারণা, জানুন সত্যতা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ০৯:৩৪:২৭
রাতে পানি খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে বড় ভুল ধারণা, জানুন সত্যতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য নিয়ে নানা ধরনের টোটকা ও পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে কোনটি বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য আর কোনটি শুধুই প্রচলিত ধারণা—তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। সম্প্রতি এমনই একটি দাবি ছড়িয়েছে যে, রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করলে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমে। তবে এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করতে পরিমিত পানি পান করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করাকে স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের বিশেষ কোনো উপায় কিংবা ওষুধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অর্থাৎ শুধু রাতে শোয়ার আগে পানি খেলেই এসব রোগের ঝুঁকি কমে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এতে রক্তের পরিমাণ ও রক্তসঞ্চালনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সারাদিন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি পান করাকে আলাদা কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখার পরিবর্তে নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পানি পান করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমের মধ্যে সাধারণত পানি পান করা হয় না। এ কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমানোর আগে পরিমিত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শোয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করলেই রক্ত ঘন হওয়া বা স্ট্রোকের ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব।

বরং ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান করলে উল্টো বারবার প্রস্রাবের বেগে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে তা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি পান করার কোনো প্রয়োজন নেই।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কোনো একটি টোটকার ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, রাতে ঘুমানোর আগে পরিমিত পানি পান শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এটিকে স্ট্রোক বা হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের বিশেষ পদ্ধতি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো অভ্যাস বা চিকিৎসাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে