×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রিমিয়ার ব্যাংকের নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন, ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক

২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৮:১৫:৪২
প্রিমিয়ার ব্যাংকের নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন, ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির। একই সঙ্গে পরিচালন কার্যক্রম থেকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক অবস্থা কাটিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে ব্যাংকটিরপরিচালন লোকসান বৃদ্ধির প্রভাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। মূলত পরিচালন ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি লোকসান কমলেও অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির কারণে নগদ প্রবাহে উন্নতি হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ১ টাকা ৩৭ পয়সা। অর্থাৎ আলোচ্য তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ঋণাত্মক ৪ টাকা ৩৯ পয়সা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ৩ টাকা ২ পয়সা।

শতাংশের হিসাবে তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান প্রায় ৬৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে। তবে লোকসানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও ব্যাংকটি এখনো মুনাফায় ফিরতে পারেনি।

নয় মাসেও লোকসান, তবে আগের বছরের তুলনায় কমেছে

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলেও প্রিমিয়ার ব্যাংকের লোকসান কমার চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ৪ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৯ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ৯৭ পয়সা। শতাংশের হিসাবে লোকসান কমেছে প্রায় ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি প্রতিবেদনের সময়ে পরিচালন ব্যয় কমেছে। মূলত এই ব্যয় হ্রাস পাওয়ার কারণেই সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয়ের নেতিবাচক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

তবে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও ব্যাংকটির সামগ্রিক আর্থিক ফলাফল এখনো ঋণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।

নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন, ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ২৪ টাকা ৯৭ পয়সা।

আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত এনওসিএফপিএস ছিল ঋণাত্মক ২২ টাকা ৭৩ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহে ৪৭ টাকা ৭০ পয়সার ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এর মাধ্যমে আগের বছরের ঋণাত্মক নগদ প্রবাহ কাটিয়ে চলতি বছরে ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে ব্যাংকটি।

তবে নগদ প্রবাহের এই উন্নতির পেছনে ব্যাংকটির নিজস্ব ব্যবসায়িক আয় বৃদ্ধির পরিবর্তে অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ বেড়েছে। মূলত এ কারণেই আগের বছরের তুলনায় সমন্বিত পরিচালন নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে নগদ প্রবাহ ইতিবাচক হলেও এর পেছনে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়টি ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যে বড় পতন

এদিকে, লোকসান কিছুটা কমা এবং নগদ প্রবাহে উন্নতি হলেও প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে।

ব্যাংকটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৭ পয়সা।

আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৬ টাকা ১৫ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে ৭ টাকা ৮ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই পতন প্রায় ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য প্রতিবেদনের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালন লোকসান বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে।

অর্থাৎ চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক এবং প্রথম নয় মাসে আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি লোকসান কমলেও পরিচালন লোকসানের প্রভাবে ব্যাংকটির সম্পদমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সার্বিকভাবে, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে মিশ্র পরিস্থিতি উঠে এসেছে। একদিকে পরিচালন ব্যয় কমায় শেয়ারপ্রতি লোকসান হ্রাস পেয়েছে এবং অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির ফলে নগদ প্রবাহ ইতিবাচক হয়েছে। অন্যদিকে, পরিচালন লোকসান বৃদ্ধির কারণে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ফলে লোকসান কমার পাশাপাশি ব্যাংকটির সম্পদমূল্যের অবনতি এবং নগদ প্রবাহ বৃদ্ধির উৎস—এই দুটি বিষয় আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে