×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে আসছে কঠোর নিয়ম

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:৩৭:৫৬
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতিতে আসছে কঠোর নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে দেশটির লেবার সরকার। নতুন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য বা নির্ভরশীল ব্যক্তিদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের সরাসরি ভূমিকা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এ বিষয়ে নতুন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান অভিবাসন চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নেট অভিবাসনের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় চাহিদার ওপর নির্ভরশীল বর্তমান অভিবাসন কাঠামোর পরিবর্তে সরকারনিয়ন্ত্রিত কোটা ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর কতসংখ্যক মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ ও দেশটি থেকে বের হবেন, তা আরও সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার নেট অভিবাসনের সংখ্যা বর্তমানের প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার থেকে কমিয়ে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। অভিবাসনের বড় একটি অংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে হওয়ায় এই খাতেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা পেয়েছিলেন। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ভিসার বিষয়ও যুক্ত ছিল। নতুন ব্যবস্থায় বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে না এনে একাই অস্ট্রেলিয়ায় আসার শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।

এর ফলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনার সময় স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা অন্য নির্ভরশীল সদস্যকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।

শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীল সদস্যদের বিষয়েই নয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্য ভিসা ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ নিয়েও কড়াকড়ির পরিকল্পনা করছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলা বা বারবার করা আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে অভিবাসনের চাপ কমানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন নীতির মাধ্যমে সরকার অভিবাসনের সংখ্যা আরও নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।

তবে প্রস্তাবিত কড়াকড়ি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে গেলে উচ্চশিক্ষা খাতের আয় কমতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেসব দক্ষ কর্মী অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারে যুক্ত হন, তাদের প্রবাহও কমে যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোও বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছে। ফলে অভিবাসন কমানোর সরকারি লক্ষ্য এবং অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রাখা নতুন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে এসব পরিবর্তনের সবগুলো এখনো চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর হয়নি। সরকার নতুন নীতিমালা ঘোষণা ও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট আইন বা বিধিতে পরিবর্তন আনার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক কী ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি, নির্ভরশীল সদস্যদের ভিসা সুবিধা এবং ভিসা পরিবর্তনের নিয়ম সম্পর্কে দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে