ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মৃ/ত্যুদণ্ডের রায়ের পর দুই পরিবারের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

২০২৬ জুন ০৭ ১৯:১২:৪৪
মৃ/ত্যুদণ্ডের রায়ের পর দুই পরিবারের ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর দুই পরিবারের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। একদিকে শোকাহত সোহেলের পরিবার, অন্যদিকে রায় মেনে নিয়ে বিচার কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্বপ্নার পরিবার।

রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে সোহেলের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া।

সোহেলের বাবা জাকির হোসেন বলেন, “অপরাধী হলেও সোহেল আমার ছেলে। আমরা গরিব মানুষ। আপিল করার সামর্থ্য নেই। সরকারিভাবে আইনগত সহায়তা পেলে আপিলের কথা ভাবব।”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহেলের মা বলেন, “ছেলের ফাঁসির রায় মেনে নেওয়া খুব কষ্টের। কিন্তু সে অপরাধ করেছে, তাই আমাদের কিছু বলারও নেই।”

সোহেলের বোন জলি বেগম জানান, পরিবারের সদস্যরা এমন রায়ের আশঙ্কা আগেই করেছিলেন। অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকলে তারা আপিল করতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এমন নৃশংস অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া প্রয়োজন ছিল।প্রতিবেশীরা বলেন, শিশু হত্যার মতো ঘটনার কঠোর শাস্তি ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা রায় মেনে নিয়েছেন এবং আপিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস। আমি অনেক আগেই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। আদালতের রায় মেনে নিয়েছি। পরিবার থেকে কোনো আপিল করা হবে না।”

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই স্বপ্নার সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না। পরিবারের অমতে সোহেলকে বিয়ে করার পর সম্পর্কের দূরত্ব আরও বেড়ে যায়।

এলাকাবাসীর কয়েকজনের দাবি, সোহেলের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নথি বা বিচারিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

চার বছর আগে সোহেল ও স্বপ্না সিংড়া ছেড়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঈদুল আজহার ছুটির পর ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

পরবর্তী কয়েক দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।আদালত রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পৃথক অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

রবিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে