ঢাকা, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বিশ্বকে অচল করে দেয়ার নতুন ‘অস্ত্র’ পেল ইরান

২০২৬ মে ১৮ ১০:২০:১১
বিশ্বকে অচল করে দেয়ার নতুন ‘অস্ত্র’ পেল ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক: হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তারের পর এবার বৈশ্বিক অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—সমুদ্রগর্ভস্থ সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ইরান। পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া এসব কেবলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান।

ইউরোপ, এশিয়া ও পারস্য উপসাগরের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ও আর্থিক তথ্য আদান-প্রদানের জন্য এই সাবমেরিন কেবলগুলো ব্যবহৃত হয়। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া কেবল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নিয়ম মানতে হবে।

রাষ্ট্র-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা ও অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলোকে ইরানের আইন অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সাবমেরিন কেবল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স ফি দিতে হবে এবং কেবল মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে ইরানি কোম্পানিগুলোর হাতে।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, “আমরা ইন্টারনেট কেবলের ওপর ফি আরোপ করব।”

রাষ্ট্র-সমর্থিত কয়েকটি গণমাধ্যম ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ না করা হলে ডাটা ট্রাফিক ব্যাহত হতে পারে। এতে বৈশ্বিক তথ্য প্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয় সমুদ্রতলের সাবমেরিন কেবল। বিশ্বের অধিকাংশ ইন্টারনেট ও ডাটা ট্রাফিক এই কেবলের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। ফলে এসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সামরিক যোগাযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্লাউড অবকাঠামো, রিমোট ওয়ার্ক, অনলাইন গেমিং ও স্ট্রিমিং সেবাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান দীনা এসফানদিয়ারির মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব প্রদর্শন এবং শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ইরানের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে হামলার ঝুঁকি নিতে কেউ দ্বিধা বোধ করে।”

হরমুজ প্রণালি দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তমহাদেশীয় সাবমেরিন কেবল অতিক্রম করেছে। টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির গবেষণা পরিচালক অ্যালান মলডিন জানিয়েছেন, ‘ফ্যালকন’ ও ‘গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল (জিবিআই)’ নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেবল ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক হাবতুর রিসার্চ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক মোস্তফা আহমেদের মতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুদ্ধ ডুবুরি, ক্ষুদ্র সাবমেরিন ও পানির নিচের ড্রোন ব্যবহারে সক্ষম হওয়ায় সাবমেরিন কেবলের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এসব কেবলে যেকোনো হামলা কয়েকটি মহাদেশজুড়ে ডিজিটাল বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।”

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে