ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

২০২৬ মে ১৩ ০৮:৩৬:৩৯
৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী জুলাই থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।

দীর্ঘদিন ধরে খেলাপি ঋণের অর্থ আদায় করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতকারীদের অর্থও ফেরত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, অবসায়নের সিদ্ধান্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ অর্থ আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই আশ্বাসের পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক রেজুলেশন আইনে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ, পুনর্গঠন বা বন্ধের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরতে ব্যর্থতার কারণে কেন ২০টি এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না—এ মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে নয়টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রাথমিক তালিকায় ছিল ফাস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিজিংকেও বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের সিদ্ধান্তে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে