ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বীমা খাতে আস্থার সংকট; প্রিমিয়াম জমা হলেও মিলছে না দাবির টাকা

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ০০:১৪:৫১
বীমা খাতে আস্থার সংকট; প্রিমিয়াম জমা হলেও মিলছে না দাবির টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে, তার অর্ধেকও দাবি হিসেবে পরিশোধ করেনি। এই ক্রমবর্ধমান অপরিশোধিত দাবি বীমা খাতের প্রতি জনমনে আস্থার সংকট আরও গভীর করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিগুলো মোট ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করলেও বিপরীতে মাত্র ২ হাজার ২২১ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা মোট আয়ের মাত্র ৪৮ শতাংশ।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সার্বিক দাবি নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে লাইফ ইন্স্যুরেন্সে নিষ্পত্তির হার ৩৫.১৮ শতাংশ হলেও নন-লাইফ খাতে এটি অত্যন্ত হতাশাজনক—মাত্র ৭.৫৫ শতাংশ। বর্তমানে পুরো খাতে বকেয়া দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬২৪ কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকরা নিয়মিত প্রিমিয়াম দিলেও কোম্পানিগুলো পাওনা পরিশোধে অনীহা দেখাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য হুমকিস্বরূপ।

একটি আদর্শ বীমা কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্যের সূচক হলো ইনকার্ড ক্লেইম রেশিও (আইনিআর), যা ৬০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকাকে ইতিবাচক ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে এই হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে কোম্পানিগুলো সাময়িক মুনাফা করলেও গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পুরনো অনেক কোম্পানি যাদের পলিসি এখন ম্যাচিউরড হয়েছে, তাঁরাও পাওনা পরিশোধে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাবেক বীমা কর্মকর্তাদের মতে, প্রিমিয়ামের টাকা যদি দাবি পরিশোধে ব্যবহৃত না হয়, তবে তা লাইফ ফান্ড বা বিনিয়োগে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক কোম্পানির লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগের পরিমাণও কমছে। এটি তহবিলের অপব্যবহার বা দুর্বল ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। দুর্বল তদারকি এবং স্বচ্ছতার অভাবে অনেক গ্রাহক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং বীমা করাকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।

খাতটিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইডিআরএ ইতিমধ্যেই কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে নন-লাইফ বীমায় ব্যক্তিগত এজেন্টের কমিশন শূন্য শতাংশ করা হয়েছে এবং তাঁদের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংস্কারগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দাবি নিষ্পত্তির হার বাড়বে। এতে আগামী অর্থবছরগুলোতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসতে পারে এবং বাজারে ক্যাশ প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে