ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যে কারণে ভোটের মাঠে নেই বিভিন্ন দলের হেভিওয়েটরা

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ২০:২৬:০৪
যে কারণে ভোটের মাঠে নেই বিভিন্ন দলের হেভিওয়েটরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনি উৎসব। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যখন প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তখন দেখা যাচ্ছে প্রধান দলগুলোর অনেক শীর্ষ নেতাই এবারের ভোটযুদ্ধে নেই। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন কিংবা নিজ আসনে শক্তিশালী ভিত্তির অভাব—এমন নানাবিধ কারণে অনেক হেভিওয়েট নেতা ভোট উৎসবের বাইরে রয়েছেন। এছাড়া ইসির সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটির কোনো নেতারই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বার্ধক্যজনিত কারণে এবার পঞ্চগড়-১ আসনে নিজে না দাঁড়িয়ে ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সরকারকে লড়তে দিয়েছেন। একই কারণে মুরাদনগরের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াও এবার ভোটের মাঠে নেই।

অন্যদিকে, নির্বাচন পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে থাকায় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান প্রার্থী হননি। একই তালিকায় আছেন রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু এবং মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মতো প্রভাবশালী নেতারা, যারা বর্তমানে দলীয় প্রার্থীদের জয়ের কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার সাতকানিয়া আসনে প্রার্থী হতে পারেননি; সেখানে তাঁর বদলে লড়ছেন শাহজাহান চৌধুরী। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল নিজের আসন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমিরকে সমর্থন দিয়েছেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাজে যুক্ত থাকায় এ টি এম মাছুম ও মাওলানা আব্দুল হালিমসহ চারজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ভোটের লড়াইয়ে নামেননি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রার্থীরা যেন সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন, সেটির তদারকি করতেই এসব নেতা নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদের পত্নী রওশন এরশাদ বার্ধক্যের কারণে এবার ময়মনসিংহ বা রংপুরের কোনো আসন থেকেই দাঁড়াননি। দীর্ঘদিনের অপরাজেয় নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও অনিশ্চয়তা ও বয়সজনিত কারণে পিরোজপুর-৩ আসনে এবার অনুপস্থিত।

একই চিত্র দেখা গেছে জাতীয় পার্টি (জাফর)-এর মোস্তফা জামাল হায়দারের ক্ষেত্রেও। তরুণদের দল এনসিপি-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় নিজে প্রার্থী হননি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারাদেশের প্রার্থীদের খোঁজ নিতেই আসিফ মাহমুদ ও সামান্তা শারমিনের মতো নেতারা নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন। ধর্মভিত্তিক দল ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমও এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, যাতে তিনি দেশজুড়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন।

অন্যদিকে, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ এমন অভিযোগে টাঙ্গাইলের হেভিওয়েট প্রার্থী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এবার গামছা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামেননি। এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নিজেও নির্বাচন করছেন না; তাঁর পরিবর্তে জামায়াত জোট থেকে তাঁর ছেলে ওমর ফারুক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাসদ নেতা আ স ম আবদুর রব বার্ধক্যের কারণে এবার তাঁর স্থলে স্ত্রী তানিয়া রবকে নির্বাচনে পাঠিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শীর্ষ নেতাদের এই অনুপস্থিতি তৃণমূলের ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তবে অনেক দলই মনে করছে, শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে তা জোটের সামগ্রিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

নির্বাচনি এই ডামাডোল এবং বড় দলগুলোর কৌশলী অবস্থান আগামী অর্থবছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন, যাতে বাজারে ক্যাশ প্রবাহ ও আস্থার পরিবেশ বজায় থাকে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে