ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

দিল্লিতে শেখ হাসিনার কণ্ঠে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ২৩:০৪:৫৬
দিল্লিতে শেখ হাসিনার কণ্ঠে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানকালে এই প্রথম কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শুক্রবার নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সভায় তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে রেকর্ড করা অডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বক্তব্যে তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ, সহিংস ও বিদেশনির্ভর ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রশূন্য অবস্থায় ভয়াবহ সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বক্তব্যের অধিকাংশ সময়জুড়ে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন। অধ্যাপক ইউনূসকে তিনি ‘সুদখোর’, ‘অর্থ পাচারকারী’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনার অভিযোগ, বিদেশি স্বার্থ রক্ষার বিনিময়ে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানকে বিপন্ন করছেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত থাকলেও শেখ হাসিনা মঞ্চে আসেননি; বরং জনাকীর্ণ মিলনায়তনে তাঁর অডিও বক্তব্যটি শোনানো হয়।

নিজের ক্ষমতা হারানোর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ওই সময়ের পর থেকেই দেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ তোলেন, অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশকে বহুজাতিক সংঘাতের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা তাঁর সমর্থকদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রক্ষার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগকে দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও একমাত্র বৈধ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের শক্তিতেই দলটি আবারও একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। বক্তব্য শেষ হলে মিলনায়তনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। প্রথম দফায় তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অপসারণ দাবি করে বলেন, এই প্রশাসনের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। দ্বিতীয় দফায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্বার্থে নৈরাজ্য বন্ধের আহ্বান জানান। তৃতীয় দফায় সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। চতুর্থ দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি হয়রানি বন্ধের কথা বলেন এবং পঞ্চম দফায় গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি থেকে দেওয়া এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্বাসনে থেকেও তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় প্রভাব বিস্তারের কৌশল গ্রহণ করছেন। তিনি চলমান পরিস্থিতিকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বনাম চরমপন্থার দ্বন্দ্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়তে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দ্রুত ফিরে না এলে আগামী অর্থবছরগুলোতে বাজারে তারল্য সংকট ও সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশের অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে