ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন স্কেলে বড় পরিবর্তন

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৮:১৭:৪৮
খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন স্কেলে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক : মসজিদ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা–২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এই নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের মসজিদগুলোর জনবল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নীতিমালায় খতিব ছাড়া অন্যান্য মসজিদকর্মীর জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবদের বেতন চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মসজিদ এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুসারে জ্যেষ্ঠ পেশ ইমামকে ৫ম গ্রেড, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ইমামকে ৯ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে প্রধান মুয়াজ্জিনকে ১০ম গ্রেড, মুয়াজ্জিনকে ১১তম গ্রেড, প্রধান খাদিমকে ১৫তম গ্রেড এবং খাদিমকে ১৬তম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবার আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের লক্ষ্যে মাসিক সঞ্চয় ব্যবস্থা এবং চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের বিধানও রাখা হয়েছে।

নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করা যাবে। পাশাপাশি বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ কর্মদিবসে এক দিন করে অর্জিত ছুটির সুযোগ থাকবে।

মসজিদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরির শর্তাবলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশনাও রয়েছে।

২০২৫ সালের নীতিমালায় নতুন করে মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য শরিয়তসম্মত পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়ে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হলেও মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান অনুযায়ী তা কম-বেশি করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

চাকরি সংক্রান্ত কোনো বিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন। পাশাপাশি নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে। নীতিমালাটি প্রণয়নের আগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে