×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বাজার থেকে ভুলেও কিনবেন না ৫ প্রকারের মাছ

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১২:৪৬:০৬
বাজার থেকে ভুলেও কিনবেন না ৫ প্রকারের মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—প্রবাদটি বাঙালির চিরন্তন খাদ্যাভ্যাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। দুপুরের গরম ভাতের পাতে এক টুকরো মাছ না থাকলে বাঙালির আহার যেন অপূর্ণই থেকে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ, ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োগ এবং প্রাকৃতিক দূষণের কারণে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকা বেশ কিছু পরিচিত মাছ মানবদেহের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অসচেতনভাবে এসব মাছ খেলে দীর্ঘমেয়াদে তা প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যেসব মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি:

১. বড় মাগুর মাছ: হরমোনের অপব্যবহারের আশঙ্কা

দ্রুত বৃদ্ধির জন্য চাষের বড় আকারের মাগুর মাছে ক্ষতিকর হরমোন ও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের কৃত্রিম উপায়ে দ্রুত বড় করা মাছ নিয়মিত খেলে মানবদেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্টসহ নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কেবল মাছের আকারের দিকে না তাকিয়ে এর উৎস এবং চাষের পদ্ধতি নিশ্চিত হয়ে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।

২. টুনা ও ম্যাকেরেল: পারদের (মার্কারি) বিষক্রিয়া

টুনা ও ম্যাকেরেল প্রজাতির কিছু মাছে উচ্চমাত্রায় পারদ (Mercury) জমে থাকার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রের বড় শিকারি মাছগুলোতে এই মাত্রা তুলনামূলক বেশি। অতিরিক্ত পারদ মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে গর্ভবতী নারী, দুগ্ধদানকারী মা, শিশু এবং সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন—এমন ব্যক্তিদের এসব মাছ খাওয়া ও পরিমাণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৩. পাঙ্গাশ ও পাবদা: চাষের পরিবেশ ও অনিরাপদ খাদ্য

চাষের পাঙ্গাশ ও পাবদা মাছের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো চাষাবাদের পরিবেশ। অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পানি, মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিকের ব্যবহার কিংবা মানহীন অনিরাপদ খাদ্যে (ফিড) চাষ করা মাছ বিষাক্ত উপাদানে ভরপুর হতে পারে। দূষিত পানিতে বড় হওয়া এসব মাছ খেলে কিডনি, লিভারসহ পেটের বিভিন্ন জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।

৪. তেলাপিয়া: ক্ষতিকর চর্বি ও হৃদরোগের ঝুঁকি

বাঙালির অত্যন্ত সহজলভ্য ও পরিচিত মাছ তেলাপিয়া। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা কিছু তেলাপিয়া মাছে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা অতিরিক্ত থাকে এবং ক্ষতিকর চর্বি বিদ্যমান থাকতে পারে। এটি মানবদেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, এসব ঝুঁকির অর্থ এই নয় যে মাছ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। বরং মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা এবং সঠিক মাছ নির্বাচনই আসল সমাধান:

মাছের আকার বড় দেখেই প্রলুব্ধ না হয়ে নিরাপদ প্রাকৃতিক উৎস বা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চাষ করা মাছ কিনতে হবে।

বিশেষ করে সামুদ্রিক বড় মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত।

মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার করে এবং সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর

উ
প
রে