×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১১:২৪:১৩
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহের স্মরণে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপি এবার আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে।

দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। এরপর ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে একাধিক পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান ও পাল্টা-অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটে।

৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। একই সময় সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দী করা হয়। ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দিবসটি উপলক্ষে জারি করা নির্দেশনায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনেও একই কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ দিনের ছুটির আওতায় থাকবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের তফশিলি ব্যাংকগুলোও বন্ধ থাকবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আয়োজন।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, র‌্যালির আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেছেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সেনাসদস্য ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। তাঁর ভাষায়, দেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা একইভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দিবসটি উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে বিশেষ আয়োজন থাকবে।

এ ছাড়া ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরেও মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসরের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচেরও আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে