×
ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

পবিত্র কোরআন নিয়ে বিস্ময়কর ব্যাখ্যা দিলেন মার্কিন গণিতবিদ

২০২৬ নভেম্বর ০৬ ১০:৩৪:৩০
পবিত্র কোরআন নিয়ে বিস্ময়কর ব্যাখ্যা দিলেন মার্কিন গণিতবিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম, কৈশোরে ধর্ম নিয়ে সংশয় এবং একপর্যায়ে নাস্তিক হয়ে যাওয়া—জেফ্রি ল্যাংয়ের জীবনযাত্রা ছিল নানা প্রশ্ন ও অনুসন্ধানে ভরা। যুক্তরাষ্ট্রের এই গণিতবিদ অধ্যাপক পরবর্তী সময়ে পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা এবং কোরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে ব্যতিক্রমী বিশ্লেষণ ধর্ম ও দর্শন নিয়ে আগ্রহী মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ল্যাংয়ের মতে, ইসলামকে শুধু কিছু নিয়মকানুন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে এর মূল শিক্ষা উপলব্ধি করা কঠিন। বরং কোরআনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে মানুষের চিন্তাশক্তি, নৈতিকতা, জীবনের উদ্দেশ্য এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা।

১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জেফ্রি ল্যাং। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে উঠলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে তাঁর মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং নিজেকে নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে গণিতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত হন তিনি। শিক্ষকতা জীবনে কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তাঁদের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো পবিত্র কোরআনের একটি ইংরেজি অনুবাদ পড়ার সুযোগ পান।

কোরআন অধ্যয়ন করতে গিয়ে ল্যাং এমন কিছু বিষয় খুঁজে পান, যা তাঁর দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সংশয় ও অস্তিত্বসংক্রান্ত প্রশ্নগুলোকে নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

তাঁর কাছে কোরআনের বিশেষত্ব ছিল—এটি শুধু বিশ্বাসের কথা বলে না, বরং মানুষকে প্রশ্ন করতে, চিন্তা করতে এবং নিজের অস্তিত্ব ও চারপাশের জগৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে।

দীর্ঘ অনুসন্ধান ও অধ্যয়নের পর ১৯৮২ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা, ধর্মীয় চিন্তা এবং ইসলাম নিয়ে উপলব্ধি তুলে ধরতে একাধিক বই লেখেন। এর মধ্যে রয়েছে Losing My Religion: A Call for Help।

পবিত্র কোরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে জেফ্রি ল্যাংয়ের আলোচিত বিশ্লেষণগুলোর একটি হলো—কোরআনের খুব সামান্য অংশে সরাসরি বিধি-বিধান বা আদেশ-নিষেধের আলোচনা রয়েছে। তাঁর উপস্থাপিত একটি হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের বিষয়বস্তু প্রায় ৩ শতাংশের মতো। অন্যদিকে বাকি অংশে গুরুত্ব পেয়েছে নৈতিকতা, মানবজীবনের উদ্দেশ্য, ইতিহাস, চিন্তাভাবনা এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক।

তবে এই ৩ শতাংশ বনাম ৯৭ শতাংশের হিসাবকে কোরআনের সর্বজনস্বীকৃত বা নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ল্যাংয়ের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও বিষয়বস্তুর শ্রেণিবিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল।

ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে বিধি-বিধানসংক্রান্ত আয়াতের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন মত রয়েছে। ফলে তাঁর এই বিশ্লেষণের মূল তাৎপর্য সংখ্যার নির্ভুলতা নয়; বরং কোরআনের সামগ্রিক শিক্ষায় নৈতিকতা, আত্মিক উপলব্ধি ও চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরা।

ইসলাম গ্রহণের পর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ল্যাং ধর্মীয় অনুশাসন ও আচার-আচরণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলাম গ্রহণের পর কিছু মানুষের কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ও খুঁটিনাটি নিয়মকানুন পালনের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে দেখেছেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ইসলামকে যদি শুধু বাহ্যিক বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে একজন নতুন অনুসন্ধানীর কাছে ধর্মের মূল সৌন্দর্য আড়ালে থেকে যেতে পারে।

এ কারণে তিনি মনে করেন, ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, কোরআনের বক্তব্য এবং নৈতিক দর্শন বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জেফ্রি ল্যাংয়ের ইসলাম গ্রহণের গল্পের পাশাপাশি তাঁর লেখালেখি ও বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধর্মকে যুক্তি, চিন্তা ও আত্মিক উপলব্ধির আলোকে বোঝার চেষ্টা।

তাঁর বিশ্লেষণে কোরআন শুধু কিছু বিধি-বিধানের সংকলন নয়; বরং মানুষের বিবেক, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবার একটি আহ্বান।

সব মিলিয়ে, নাস্তিক্যবাদ থেকে ইসলাম গ্রহণ পর্যন্ত জেফ্রি ল্যাংয়ের যাত্রা ধর্মীয় বিশ্বাস, যুক্তি ও ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে