×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে ‘চাঁদাবাজ’ বললেন নাহিদ, ১০ দিনের আল্টিমেটাম

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১১:০৪:২২
প্রধানমন্ত্রীকে ‘চাঁদাবাজ’ বললেন নাহিদ, ১০ দিনের আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হাবিবুর রহমান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নাহিদ ইসলামের ঠিকানায় এ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৩০ অক্টোবর এক বক্তব্যে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন, দেশ পরিচালনায় তাঁর কোনো পরিকল্পনা নেই।’

বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে প্রচারিত এই বক্তব্যকে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।

তাঁর অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।

আইনজীবী মো. হাবিবুর রহমানের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এতে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশে তারেক রহমানের পারিবারিক পরিচয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাঁর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশদাতার মতে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে করা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

আইনি নোটিশে নাহিদ ইসলামকে দুটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।প্রথমত, আগামী ১০ দিনের মধ্যে চ্যানেল ওয়ান, চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ওই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন অথবা লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা প্রার্থনা না করলে নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির অভিযোগে ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।

বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তির বিধান রয়েছে। এ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

তবে কোনো বক্তব্য মানহানির অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা নির্ভর করে বক্তব্যের প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট, প্রমাণ এবং আইনের প্রযোজ্য ব্যতিক্রমগুলোর ওপর। ফলে আইনি নোটিশ পাঠানো মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়।

আইনি নোটিশ পাওয়ার পর নাহিদ ইসলামের সামনে কয়েকটি পথ খোলা রয়েছে। তিনি চাইলে বক্তব্যের পক্ষে নিজের অবস্থান ও তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে আইনি জবাব দিতে পারেন। একই সঙ্গে বক্তব্যের ভাষা বা প্রেক্ষাপট নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া কিংবা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে নোটিশে উত্থাপিত দাবি প্রত্যাখ্যান করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।

তারেক রহমানকে নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ পাঠানোর ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে বিএনপি ও এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান, দুই দলের নেতাদের পারস্পরিক বক্তব্য এবং রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এখন নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে নাহিদ ইসলাম কী পদক্ষেপ নেন এবং নোটিশদাতা আইনজীবী পরবর্তী সময়ে মামলা করেন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে