×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রায় প্রত্যাখ্যানের পোস্ট, দুই আইনজীবীকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বড় সিদ্ধান্ত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৮:৩২:৫২
রায় প্রত্যাখ্যানের পোস্ট, দুই আইনজীবীকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বড় সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া একটি রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে তলব করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘অবৈধ’, ‘মিথ্যা’, ‘বানোয়াট’ ও ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়’ হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে প্রসিডিংস জারির আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।

অভিযুক্ত দুই আইনজীবী হলেন মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে দুই আইনজীবীকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হয়ে তাদের ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম শুনানি শেষে সাংবাদিকদের জানান, ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান তুষার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রায়ের একটি সংবাদ শেয়ার করে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি রায়কে অবৈধ ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং রায় প্রত্যাখ্যানের কথা লেখেন।

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পোস্টের নিচে মোহাম্মদ হাসান চৌধুরীও মন্তব্য করেন। তিনিও রায়কে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়’ হিসেবে উল্লেখ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং রায় প্রত্যাখ্যানের কথা বলেন। পরে তুষার একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে আরও একটি পোস্ট দেন বলেও প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনাল ও এর কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন। সাধারণ ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কর্মীদের বক্তব্য প্রসিকিউশন এড়িয়ে গেলেও অভিযুক্ত দুজন আইনজীবী হওয়ায় তাদের বক্তব্য আদালতের নজরে আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের যুক্তি, আইনজীবীরা আদালতের কার্যক্রম ও রায় সম্পর্কে আইনগতভাবে অবহিত থাকেন।

প্রসিকিউশনের আবেদনে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ১১(৪) ধারার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, কোনো পক্ষ বা সাক্ষীকে হুমকি দেওয়া, আদালত অবমাননাকর আচরণ করা কিংবা ট্রাইব্যুনালের আদেশ অমান্যের ক্ষেত্রে এই ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে দুই আইনজীবীর ক্ষেত্রে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা তাদের ব্যাখ্যা এবং পরবর্তী শুনানির ওপর নির্ভর করবে।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দুই আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেবেন। এরপর আদালত বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে