×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইলেকট্রিক ট্রেনের অনুমোদন, জানুন রুট ও প্রকল্পের খুঁটিনাটি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:৪৩:৩৯
ইলেকট্রিক ট্রেনের অনুমোদন, জানুন রুট ও প্রকল্পের খুঁটিনাটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরে দেশের প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মোট ১২টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পের পাশাপাশি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পও রয়েছে।

ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত ডিজেলনির্ভর রেল ব্যবস্থার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থার সূচনা হবে।

প্রকল্পের আওতায় রেলপথের ওপর ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ট্র্যাকশন সাবস্টেশন নির্মাণ এবং বৈদ্যুতিক ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট বা ইএমইউ ট্রেন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল করিডোর। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এ রুটের গুরুত্ব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে এই করিডোরে ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের বিভিন্ন নথি ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু হলে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিদ্যুৎচালিত ট্রেন দ্রুত গতি অর্জন করতে পারায় ব্যস্ত ও স্বল্প দূরত্বের রুটে বেশি সংখ্যক ট্রেন পরিচালনার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০২৬ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে ধরা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়নে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের ব্যবস্থাও রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকল্প তথ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) অর্থায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে একনেক সভায় ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পের পাশাপাশি তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট। এমআরটি লাইন-১-এর রুট বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুট হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত।

নতুন ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পকে বাংলাদেশের রেলওয়ে আধুনিকায়নের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোরেও বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ রেলওয়ের আগের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাতেও নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর অংশে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে