×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:৩৪:১৪
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাক-টু-ব্যাক লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) আওতায় স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা পণ্যের বিল পরিশোধের সর্বোচ্চ সময়সীমা ২৭০ দিন নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না হলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারককে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল বা ইডিএফ থেকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন করা যাবে না।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইডিএফ ঋণের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় সরবরাহের বিলের বকেয়া পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত ২৩ জুলাই জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ২৪-এর ৪(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ইডিএফ ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন পাঠানোর আগে এডি ব্যাংকগুলোকে ডিমড এক্সপোর্টারদের বকেয়া পরিস্থিতি যাচাই করতে হয়। এর সঙ্গে নতুন নির্দেশনাটি সামঞ্জস্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ১৩ আগস্ট জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ৩০-এর পার্ট-জি-এর ২(ঘ) অনুচ্ছেদে ব্যাক-টু-ব্যাক আমদানি এলসি উস্যান্স ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের মেয়াদে খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির ক্ষেত্রে স্থানীয় সরবরাহকারীর পাওনা পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের মধ্যে রাখার বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগের দুটি নির্দেশনার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতেই নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য উৎপাদনকারীদের বাল্ক আমদানির জন্য ইডিএফ অর্থায়নের আবেদন বিবেচনার সময় স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা পণ্যের বিলের বকেয়া পরিস্থিতিও যাচাই করতে হবে।

ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিপরীতে স্থানীয় সরবরাহের কোনো বিল ২৭০ দিনের বেশি বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইডিএফ অর্থায়নের আবেদন করা যাবে না। ফলে ইডিএফ ঋণের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে রপ্তানিমুখী উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্থানীয় সরবরাহের বিল সময়মতো পরিশোধের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ইডিএফ ঋণের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর দায়িত্বও বাড়বে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ইডিএফ ঋণ পরিচালনার বিষয়ে গত ২৩ জুলাই জারি করা সার্কুলার নম্বর ২৪-এর অন্যান্য নির্দেশনা আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবহিত করার জন্য এডি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন এই বিধান মূলত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির স্থানীয় সরবরাহ বিল পরিশোধের সময়সীমা এবং ইডিএফ ঋণ পাওয়ার যোগ্যতার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করেছে। ফলে ভবিষ্যতে ইডিএফ অর্থায়নের আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় দায় ও বকেয়া বিলের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে