×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবম পে-স্কেলে উচ্চতর গ্রেডের নতুন হিসাব, একাধিক সুবিধা নিয়ে শর্ত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৭:২৩:০৬
নবম পে-স্কেলে উচ্চতর গ্রেডের নতুন হিসাব, একাধিক সুবিধা নিয়ে শর্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশে পদোন্নতি ছাড়াই একই বা সমতুল্য পদে নির্দিষ্ট সময় চাকরি পূর্ণ করলে বর্তমানের তুলনায় কম সময়ের মধ্যে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তন এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত গেজেট ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারির পরই নতুন নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে ১১তম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পান। এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পরও যদি পদোন্নতি না হয়, তাহলে আরও ছয় বছর চাকরি পূর্ণ করার পর সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে আট বছর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো কর্মচারী একই বা সমতুল্য পদে পদোন্নতি ছাড়া আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এতে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় দুই বছর আগে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই বা সমতুল্য পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, পদোন্নতি না হলেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন সরকারি কর্মচারী কর্মজীবনে দুইবার উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একজন কর্মচারী একই পদে দুইবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে তৃতীয় বা তার ওপরে গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের বেতনস্কেলগুলোতে একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা অন্য কোনো উচ্চতর স্কেলের সুবিধা পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান প্রযোজ্য হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কেউ আগের বেতনস্কেলে একই পদে এ ধরনের দুই বা তার বেশি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে একই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

এ ছাড়া ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে একই পদে কোনো কর্মচারী মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, সেই সুবিধা পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আগের সময়ের কোনো বকেয়া পাওনা দেওয়া হবে না এবং নতুন গ্রেড অনুযায়ী অতীত সময়ের বেতন পুনর্নির্ধারণের সুবিধাও থাকবে না।

উচ্চতর গ্রেড নিয়ে আগে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়েও আদালতে মামলা হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে আপিল বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি রিভিউ আবেদন খারিজ করে উচ্চতর গ্রেড সুবিধা-সংক্রান্ত আগের রায় বহাল রাখেন। ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড সুবিধার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্য বিবেচনায় নেওয়ার কাজও চলছে। এর মধ্যে কর্মচারীর পদ, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতির তথ্য এবং আগে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত এসব নিয়ম এখনো চূড়ান্ত নয়। নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ অনুমোদন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে গেজেট বা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারির পর উচ্চতর গ্রেডের নতুন নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম ও প্রস্তাবিত নিয়মের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত বিধানকে কার্যকর নিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে