×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মদিনায় মিলল ১০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ০৯:৫৮:৩০
মদিনায় মিলল ১০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে আনুমানিক ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিকের বিশাল ভান্ডারের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে দেশটি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাঈদ এলাকায় পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানের সময় ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং উল্লেখযোগ্য ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কার সৌদি আরবের খনিজ ও জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাবাল সাঈদ খনিটি জেদ্দা শহর থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। অঞ্চলটি আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের জন্য পরিচিত। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম মজুত থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরবের এই খনিজ আবিষ্কারের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দেশটি পারমাণবিক জ্বালানি ও খনিজ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সহায়তায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর দুই দেশের খনিজ খাতের সহযোগিতাও বাড়ে। ওই সময় সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’ ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এমপি ম্যাটেরিয়ালস’-এর মধ্যে অংশীদারিত্বের চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় একটি নতুন খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়, যার ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সম্মতির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করেছে। এসব অঞ্চলের সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন বলে জানানো হয়েছে। ফলে দেশটির খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা শুধু জাবাল সাঈদেই সীমাবদ্ধ নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামের কৌশলগত গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সৌদি আরবের নতুন এই আবিষ্কার দেশটির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক খনিজ বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব খনিজ সম্পদের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের তুলনায় এই মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন আবিষ্কার ও খনিজ অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন করা গেলে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের জ্বালানি ও খনিজ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে