×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্যাংকের এমডিদের দক্ষতা যাচাইয়ে নতুন নিয়ম, থাকবে পেনাল্টির ব্যবস্থাও

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৬:০১:৪৪
ব্যাংকের এমডিদের দক্ষতা যাচাইয়ে নতুন নিয়ম, থাকবে পেনাল্টির ব্যবস্থাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কর্মদক্ষতা পরিমাপে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে মোট ১০০ নম্বরে এই মূল্যায়ন করা হবে। নির্ধারিত সূচকে এমডির কর্মদক্ষতার ফলাফলের ভিত্তিতে তার নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ, মেয়াদ বাড়ানো এবং বেতন-ভাতা ও প্রণোদনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একজন এমডির কর্মদক্ষতা ছয় মাসের সময়সীমায় মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা এমডিদের ক্ষেত্রে প্রথম মূল্যায়নকাল ধরা হয়েছে আগামী অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। পরবর্তীতে কোনো নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়া হলে দায়িত্ব গ্রহণের পরবর্তী ছয় মাসের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে তার মূল্যায়ন করা হবে।

পাঁচ দৃষ্টিভঙ্গিতে ১০০ নম্বর

এমডির কর্মদক্ষতার পাশাপাশি ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অভিন্ন ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামো নির্ধারণ করেছে। আগের ছয় মাসের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পরই এসব লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, জরুরি পরিস্থিতিতে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতার মূল্যায়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর।

খেলাপি ঋণ কমানো, অবলোপন করা ঋণ আদায় এবং শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার কাছে ঋণের কেন্দ্রীভবন নিয়ন্ত্রণের জন্যও রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর আরও ২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাংকের ভূমিকার জন্য রয়েছে ১৫ নম্বর। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং কৃষিঋণ, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার বিস্তার, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং গ্রাহকের অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ব্যাংকের মুনাফা অর্জন এবং পরিচালন ব্যয়ের দক্ষতার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ নম্বর।

৫০ শতাংশের কম অর্জনে শূন্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত প্রতিটি সূচকে এমডিকে অন্তত ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কোনো সূচকে অর্জনের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ওই সূচকের জন্য এমডি কোনো নম্বর পাবেন না।

তবে ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিশেষ সূচকে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঋণ-আমানত অনুপাত, খেলাপি ঋণের অনুপাত, ঋণ আদায় এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে কোনো এমডি ৫০ শতাংশের কম অর্জন করলে কিংবা শূন্য নম্বর পেলে তার মোট অর্জিত নম্বর থেকে নির্দিষ্ট হারে পেনাল্টি বা শাস্তিমূলক নম্বর কেটে নেওয়া হবে।

তিন স্তরে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন

সামগ্রিক মূল্যায়নে কোনো এমডি ৭৫ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করলে তার কর্মদক্ষতাকে ‘গড়পড়তার চেয়ে ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

৬৫ থেকে ৭৫-এর কম নম্বর অর্জন করলে তা ‘গড়পড়তা’ কর্মদক্ষতা হিসেবে গণ্য হবে। আর ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট এমডির কর্মদক্ষতাকে ‘নিম্নমানের পারফরম্যান্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, সবার জন্য অভিন্ন এই মূল্যায়ন কাঠামো চালুর ফলে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি ও কর্মদক্ষতা আরও সুস্পষ্টভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে