×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ে-তালাক-উত্তরাধিকার—ভারতে আসছে নতুন আইন  

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১২:৩৪:০৪
বিয়ে-তালাক-উত্তরাধিকার—ভারতে আসছে নতুন আইন  

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বিতর্কিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার এই ঘোষণার পর ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় রীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রোববার অমিত শাহ বলেন, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শাসনে থাকা ২১টি রাজ্যেই এই বিধি কার্যকর করা সম্ভব হবে।

ভারতে ফৌজদারি আইন সবার জন্য অভিন্ন হলেও বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্ম ও সম্প্রদায়ভেদে আলাদা রীতি ও আইন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ব্যক্তিগত আইন একীভূত করে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা বিজেপির অন্যতম রাজনৈতিক লক্ষ্য।

ইউসিসির মাধ্যমে ধর্মভেদে ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও পারিবারিক বিষয়ে অভিন্ন নিয়ম চালুর কথা বলা হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রচলিত কিছু রীতি ও আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।

এই উদ্যোগ নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন অনুসরণের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের কিছু অধিকার ও রীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে ইউসিসির সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নাগরিকদের জন্য পারিবারিক আইনে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তারা বিশেষ করে বহুবিবাহের অবসান, নারী-পুরুষের উত্তরাধিকার অধিকারে সমতা এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র্যময় দেশ। দেশটির বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। প্রায় ২২ কোটি মুসলিম নিয়ে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ।

ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের বিষয়টি শুধু আইনি পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত আইন, নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ইউসিসিকে নাগরিকদের মধ্যে আইনি সমতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে বিরোধী ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের একটি অংশ এটিকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

অমিত শাহের সর্বশেষ ঘোষণার ফলে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ইউসিসি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এখন এই বিধি কোন কোন রাজ্যে কীভাবে কার্যকর করা হয় এবং এর ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত আইনে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই নজরে থাকবে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে