×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়ার লড়াই

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১১:৫০:৫২
বাংলাদেশকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়ার লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বের তিন প্রভাবশালী শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদাকে কেন্দ্র করে এই দেশগুলো নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। ফলে এলএনজি অবকাঠামো এখন শুধু জ্বালানি খাতের বিনিয়োগ নয়, বরং ভূ-রাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামোতে নতুন প্রস্তাব নিয়ে এসেছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান নোভাটেক (Novatek)। প্রতিষ্ঠানটি পেট্রোবাংলার কাছে এলএনজি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য গ্র্যাভিটি-বেজড স্ট্রাকচার (GBS) স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ (FSRU) রয়েছে। এগুলোর একটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট গ্রুপ।

আগের সরকারের সময়ে মহেশখালীতে আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থবির হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের এলএনজি অবকাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার আগ্রহের পেছনে শুধু বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পরিসরের মধ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের সমুদ্রপথ ও জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে মালাক্কা প্রণালীনির্ভর জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথ এবং বঙ্গোপসাগর হয়ে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বড় শক্তিগুলোর আগ্রহ রয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের বৈঠকেও এলএনজি প্রকল্পে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের এলএনজি খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

নীতিগত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের দিকে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার প্রতিযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এলএনজি অবকাঠামো ঘিরে পরাশক্তিগুলোর এই আগ্রহকে কেবল ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব, আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ।

বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে—এই প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের সুবিধা নেওয়া, একই সঙ্গে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে জাতীয় স্বার্থে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে