×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ওরিয়ন ইনফিউশন: ‘অদৃশ্য’ চাপে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২৩:০৭:১৫
ওরিয়ন ইনফিউশন: ‘অদৃশ্য’ চাপে নিঃস্ব বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে ফার্মা খাতের স্বল্প মূলধনী কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দরে ভয়াবহ ধস নেমেছে। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিরূপ সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা সত্ত্বেও এক শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারী কৃত্রিমভাবে ‘সেল প্রেসার’ দিয়ে শেয়ারটির এই পতন ঘটিয়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারটি পতনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস আজও শেয়ারটি পতনের শীর্ষ তালিকায় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকের (৯ মাসের) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তাতে দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) সামান্য বেড়ে ১ টাকা ৪২ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই শেয়ারটির দামে নেতিবাচক প্রবণতা শুরু হয়। ৩০ এপ্রিল শেয়ারটির দাম ছিল ৩২৫ টাকা ৫০ পয়সা। এরপর গত ৮৭ কার্যদিবসের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেয়ারটির দাম কমেছে ৫৮ দিন, বেড়েছে ২৮ দিন, আর অপরিবর্তিত ছিল একদিন। অর্থাৎ, ইতিবাচক দিনের তুলনায় নেতিবাচক দিন ছিল দ্বিগুণেরও বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক মাসেই শেয়ারটির দাম কমেছে ৩৩ শতাংশের বেশি। গত সপ্তাহে ডিএসইর পতনের শীর্ষ তালিকায় থাকার পর আজ সপ্তাহের প্রথম দিনেও শেয়ারটি ১৮ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯.৯২ শতাংশ কমেছে। দিনশেষে শেয়ারটি ১৬৯ টাকা ৯০ পয়সায় ক্লোজিং হয় এবং এক পর্যায়ে ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ে। অথচ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ারের এই ধারাবাহিক পতনের পেছনে মূল্য সংবেদনশীল কোনো কারণ তাদের জানা নেই।

ডিভিডেন্ড ও আয়ের বৈপরীত্য

কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড প্রদানের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি ধীরে ধীরে ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ১২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। বিপরীতে, ইপিএসের চিত্রে কিছুটা অবনতি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ইপিএস হয়েছিল ১ টাকা ৭২ পয়সা, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ টাকা ৮ পয়সা এবং ২০২৩ সালে ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আর সমাপ্ত অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে বা ৯ মাসে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা।

এক বছরে রেকর্ড পতন

শেয়ারটির দরের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ারের দাম ছিল ৫৮৭ টাকা। আজকের ক্লোজিং দাম ১৬৯ টাকা ৯০ পয়সা বিবেচনায়, এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম কমেছে ৪১৭ টাকা ১০ পয়সা বা ২৪৫ শতাংশের বেশি।

বিনিয়োগকারীরা জানান, ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার এক হাজার টাকারও বেশি দামে লেনদেন হয়ে রেকর্ড গড়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ তা ২৬০ টাকায় নেমে আসে। ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার ৮০০ টাকার উপরে ওঠে এবং একই বছরের ২৮ অক্টোবর ফের ২১২ টাকায় নেমে আসে। এরপর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ৫৮৭ টাকায় লেনদেন হয়, তারপর থেকেই শুরু হয় ধারাবাহিক পতন, যা আজ সর্বনিম্ন ১৬৯ টাকা ৯০ পয়সায় এসে ঠেকেছে।

কোম্পানিটির মৌলভিত্তিতে কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও শেয়ার দরের এমন অস্বাভাবিক ও ধারাবাহিক পতনে বিনিয়োগকারীরা চরম ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত। তারা সন্দেহ করছেন, বড় কোনো গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে শেয়ারটির দাম কমিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লোকসানে ফেলছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে শেয়ারটিতে এমন সেল প্রেসার দিচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চতর তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে