×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মক্কা-মদিনায় হোটেল বিজনেস: যেভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন বাংলাদেশিরা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১০:৩৩:১০
মক্কা-মদিনায় হোটেল বিজনেস: যেভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় হজ ও ওমরাহকেন্দ্রিক হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ধর্মীয় পর্যটনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ সৌদি আরবে যাতায়াত করেন। ফলে বিশেষ করে হজ, ওমরাহ ও রমজান মৌসুমে মক্কা-মদিনার আবাসন খাতে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

মক্কা ও মদিনার হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, বছরের বেশিরভাগ সময়ই এসব শহরে হোটেল কক্ষের চাহিদা থাকে। তবে রমজান ও হজের মৌসুমে চাহিদা আরও বাড়ে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে এ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের সামর্থ্য অনুযায়ী তিন ধরনের বিনিয়োগ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।

বড় বিনিয়োগকারীদের জন্য সরাসরি হোটেল ইজারা নেওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১০ লাখ সৌদি রিয়াল বা তার বেশি মূলধনের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ বছরের চুক্তির মাধ্যমে হোটেল পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। ভিডিওতে এ ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মাঝারি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম মূলধনে হোটেল কক্ষ বা নির্দিষ্ট সংখ্যক রুম ভাড়া নিয়ে সেগুলো হজ ও ওমরাহ প্যাকেজের আওতায় বিক্রির মডেলের কথা বলা হয়েছে। ভিডিওতে এ ধরনের বিনিয়োগের জন্য প্রায় ১ লাখ সৌদি রিয়াল বা তার বেশি মূলধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ, চুক্তির শর্ত ও সম্ভাব্য লাভ নির্ভর করবে হোটেল, মৌসুম ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।

অন্যদিকে, ব্রোকার বা এজেন্সি হিসেবে কাজ করার জন্য বড় অঙ্কের মূলধনের প্রয়োজন নাও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে হোটেল মালিক ও হজ-ওমরাহ যাত্রীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে বুকিংয়ের বিপরীতে কমিশন আয় করার সুযোগ থাকে।

বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে নিজের মূলধন ও ব্যবসায়িক লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগের ধরন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর হোটেল মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বৈধতা ও পূর্বের ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

চুক্তিতে যাওয়ার আগে ইজারা, রুম বুকিং, কমিশন, অর্থ ফেরত, ক্ষতির দায়, মেয়াদ ও চুক্তি বাতিলের শর্তগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। প্রয়োজনে সৌদি আরবের আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা পরামর্শকের মাধ্যমে চুক্তিপত্র যাচাই করা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রিয়াদে এবং জেদ্দা, মদিনা ও ঢাকায় শাখা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও আইনি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

তবে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগে লাভ নিশ্চিত নয়। হজ-ওমরাহ মৌসুমের চাহিদা, হোটেলের অবস্থান, ইজারা খরচ, পরিচালন ব্যয়, সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট আইন এবং চুক্তির শর্তসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিনিয়োগের ঝুঁকি ও লাভ নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো অর্থ বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, লাইসেন্স, চুক্তিপত্র এবং আর্থিক হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে