ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর সিদ্ধান্তে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আক্ষেপ

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ২৩:৩৭:১৩
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর সিদ্ধান্তে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের স্বজনরা চলে গেলেও ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ দেশের অন্যান্য প্রান্তে থাকা ভারতের সকল মিশন ও দপ্তর যথারীতি খোলা থাকবে এবং দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাবে।

ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ভারত এমন কঠোর অবস্থান নিল। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার ঢাকার হাইকমিশন ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাঁদের দেশে ফিরে যেতে আনুষ্ঠানিকভাবে পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে বিবিসির এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন থেকে বাংলাদেশকে ‘পরিবার-বহির্ভূত’ বা ‘নন-ফ্যামিলি’ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর ফলে কূটনৈতিক মর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশকে এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সুদানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কাতারে রাখা হয়েছে। এই নতুন শ্রেণিবিন্যাসের কারণেই মূলত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নয়াদিল্লির এমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিবিসি হিন্দি যখন তাঁর কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়, তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। ভারত যদি বাংলাদেশকে পাকিস্তান বা অন্য কোনো অস্থিতিশীল দেশের সমান স্তরে রাখতে চায়, তবে তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যদিও এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মন্তব্য করেন যে, উভয় দেশ যদি আসলেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন জরুরি। তিনি মনে করেন, ভারত বর্তমানে কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে যা সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। গত চার দশকের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ভারতের কাছ থেকে আরও পরিপক্ক এবং ইতিবাচক আচরণ আশা করেছিল বাংলাদেশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রতিবেশী দেশের এমন সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মনে কিছুটা সংশয় তৈরি করতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগামী অর্থবছরগুলোতে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাশ প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে সরকার ও ভারত—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে