ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সুতা আমদানি: শুল্ক নিয়ে মুখোমুখি বস্ত্র ও পোশাক খাত

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৬:১১:০২
সুতা আমদানি: শুল্ক নিয়ে মুখোমুখি বস্ত্র ও পোশাক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোকে সুরক্ষা দিতে নির্দিষ্ট কিছু সুতার ওপর থেকে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা প্রত্যাহারের সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশের টেক্সটাইল মিল মালিক এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সুতা আমদানির এই নীতি পরিবর্তন নিয়ে দুই পক্ষ এখন প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত। গত সোমবার ঢাকায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এর ঠিক পরপরই বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল পাল্টা এক বিবৃতিতে রপ্তানিকারকদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

বিটিএমএ সভাপতির দাবি অনুযায়ী, তাদের সংগঠনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত করার সুপারিশ করেছে। তিনি জানান, বিটিএমএ, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সুপারিশ করা হয়। তবে বিজিএমইএ এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ট্যারিফ কমিশন সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দেওয়া সুপারিশে পোশাক রপ্তানিকারকদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি বিজিএমইএ আরও অভিযোগ করেছে যে, বিটিটিসি বৈঠকের কার্যবিবরণী ১৩ জানুয়ারি প্রকাশ করলেও সুপারিশপত্রটি এক দিন আগেই অর্থাৎ ১২ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

মূলত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা, যা বাজারে বহুল ব্যবহৃত, সেগুলোর ওপর থেকে বন্ডেড সুবিধা বা শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা প্রত্যাহারের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিটিএমএ বলছে, এই সিদ্ধান্তে নতুন কোনো ট্যারিফ বা সেফগার্ড ডিউটি আরোপের কথা বলা হয়নি। তবে বিজিএমইএ-র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশে সুতা আমদানিতে গড় শুল্ক হার বর্তমানে ৩৯ শতাংশ। যদি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোর বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়, তবে তাদের এই পূর্ণ শুল্ক দিয়ে সুতা আমদানি করতে হবে। এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দুই সংগঠনের মধ্যে বিরোধের আরও একটি বড় জায়গা হলো লভ্যাংশ বা ভ্যালু অ্যাডিশন। বিটিএমএ সভাপতি রাসেলের মতে, এলডিসি উত্তরণের পর অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে অন্তত ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিশন নিশ্চিত করতে হবে। আর এটি কেবল স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহারের মাধ্যমেই সম্ভব। অন্যদিকে, বিজিএমইএ দাবি করেছে যে আমদানিকৃত সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি করেও ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যালু অ্যাডিশন করা সম্ভব। এছাড়া রপ্তানিকারক দেশগুলো সুতার ওপর প্রতি কেজিতে ৫০ সেন্ট ভর্তুকি দেয় বলে বিটিএমএ দাবি করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে ৩০ সেন্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—এসব তথ্যগত অসংগতি নিয়েও উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি যুক্তি দিচ্ছে। বর্তমানে মিলগুলোতে বিপুল পরিমাণ সুতা অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও পোশাক নির্মাতারা চুক্তি অনুযায়ী তা সংগ্রহ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে স্পিনারদের।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে