ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বিশ্বে ইএসজি বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কেন এখন জরুরী

২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৯:৫৫:৩৩
বিশ্বে ইএসজি বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে কেন এখন জরুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ইএসজি (ESG) রিপোর্টিং গত এক দশকে স্বেচ্ছামূলক চর্চা থেকে বাধ্যতামূলক আইনি কাঠামোতে রূপ নিয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ, ইউরোনেক্সট ও ফ্রাঙ্কফুর্ট স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি এশিয়ার সিঙ্গাপুর ও ভারতের শেয়ারবাজারেও ইএসজি রিপোর্টিং এখন বাধ্যতামূলক।

তবে বৈশ্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ইএসজি রিপোর্টিং এখনো কার্যত অনুপস্থিত। কিছু বহুজাতিক ও মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানি আংশিকভাবে ইএসজি চর্চা করলেও নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে এখনো কার্যকর বা বাধ্যতামূলক কোনো উদ্যোগ নেই।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফেরেনি। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়েনি। নীতিমালার ঘনঘন পরিবর্তন, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং ইএসজি মানদণ্ডে পিছিয়ে থাকাকেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। এই বাস্তবতায় শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে ইএসজি এখন সময়ের দাবি।

সম্প্রতি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মোট ১৬টি কোম্পানি ব্লুমবার্গ ইএসজি ইউনিভার্সে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, বিএটি বাংলাদেশ, মারিকো বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাইটেক, লাফার্জহোলসিম, এমজেএল বাংলাদেশ, বিএসআরএম, লিন্ডে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ, রবি আজিয়াটা ও সিটি ব্যাংক।

এলডিসি উত্তরণ–পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে দেশের ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোও ইএসজি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ইতোমধ্যে ইএসজি উন্নয়নে কাজ করতে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

যদিও বাংলাদেশে এখনো ইএসজি রিপোর্টিং বাধ্যতামূলক নয়, তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)-এর সঙ্গে কাজ করছে, যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো টেকসইতা প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে। তবে অতীতে দেখা গেছে, কিছু কোম্পানি আংশিকভাবে ইএসজি প্রতিবেদন তৈরি করলেও বাধ্যবাধকতা না থাকায় সেই চর্চা ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখেনি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ইএসজি রিপোর্টিংকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনার জন্য কমিশন সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডে ইএসজি বিষয়গুলো আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। এ কারণে কোড সংশোধনের কাজ চলছে, যেখানে ইএসজি রিপোর্টিংকে শক্ত ও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (ইএসআরএম) নির্দেশনা এবং ২০২০ সালের টেকসই অর্থায়ন নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলো পরিবেশ ও সামাজিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফল হিসেবে সবুজ ও টেকসই অর্থায়নে দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবুজ অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা এবং টেকসই অর্থায়ন প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা, যা যথাক্রমে ২১ শতাংশ ও ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে