ঢাকা, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

‘হ্যাংরি’ হলে কেন মাথা গরম হয় গবেষণায় মিলল ব্যাখ্যা

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:০১:২০
‘হ্যাংরি’ হলে কেন মাথা গরম হয় গবেষণায় মিলল ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক : খিদে পেলে মেজাজ খারাপ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘হ্যাংরি’—অর্থাৎ ক্ষুধার কারণে খিটখিটে বা বিরক্ত হয়ে পড়া। শব্দটি তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও অনুভূতিটি বহু পুরোনো। তবে প্রশ্ন হলো, কেন কেউ কেউ ক্ষুধা পেলেই দ্রুত রেগে যান, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকতে পারেন?

এ বিষয়টি বুঝতে সম্প্রতি গবেষকেরা একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এতে ৯০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে এক মাস ধরে বিশেষ একটি যন্ত্র পরতে দেওয়া হয়, যা নিয়মিত তাদের রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা পরিমাপ করে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের দিনে এক থেকে দুইবার স্মার্টফোনে জানাতে বলা হয়, তারা কতটা ক্ষুধার্ত অনুভব করছেন এবং সে সময় তাদের মেজাজ কেমন।

গ্লুকোজ আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের প্রধান শক্তির উৎস। সাধারণভাবে মনে করা হয়, রক্তে শর্করার মাত্রা কমলেই মানুষের মেজাজ খারাপ হয়। কিন্তু গবেষণার ফলাফল এই ধারণাকে আংশিকভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে।

গবেষকেরা দেখতে পান, শুধু গ্লুকোজ কমে গেলেই মানুষের মন খারাপ হচ্ছে না। বরং মানুষ যখন নিজে অনুভব করছে যে সে ক্ষুধার্ত, তখনই মেজাজের নেতিবাচক পরিবর্তন বেশি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ শরীরের শক্তির অবস্থার সঙ্গে মনের প্রতিক্রিয়ার মাঝখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক প্রক্রিয়া কাজ করছে।

এই প্রক্রিয়াটিকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ইন্টারোসেপশন’। এর অর্থ হলো—নিজের শরীরের ভেতরের সংকেতগুলো আমরা কতটা ভালোভাবে বুঝতে পারছি। যেমন, কখন ক্ষুধা লাগছে, কখন শক্তি কমে যাচ্ছে বা কখন বিশ্রাম দরকার।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইন্টারোসেপশন বা নিজের শরীর বোঝার ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি, তাদের মেজাজের ওঠানামাও কম হয়। তারা ক্ষুধা অনুভব করলেও নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। ফলে হঠাৎ রেগে যাওয়া বা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমে।

মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষুধার সংকেত প্রথমে তৈরি হয় হাইপোথ্যালামাস নামের অংশে। এরপর এই সংকেত পৌঁছে যায় ইনসুলা নামের অংশে, যা অনুভূতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে সচেতন থাকলে মানুষ নিজের মেজাজ ভালোভাবে সামলাতে পারে।

হঠাৎ মেজাজ খারাপ হলে তার প্রভাব পড়ে পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। এতে তাড়াহুড়া করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। অনেক সময় মানুষ তখন দ্রুত শক্তি পাওয়ার আশায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ছোট শিশুরা ধীরে ধীরে শরীরের সংকেত বুঝতে শেখে। খেলাধুলা বা ব্যস্ততায় তারা অনেক সময় ক্ষুধা বা তৃষ্ণা উপেক্ষা করে, ফলে হঠাৎ কান্না বা রাগ দেখা দেয়। আধুনিক ব্যস্ত ও ডিজিটাল জীবনে অনেক প্রাপ্তবয়স্কও একই সমস্যার মুখোমুখি হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাবারের সময় মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে ক্ষুধা ও মেজাজ খারাপ একসঙ্গে দেখা দেয়। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও শারীরিক পরিশ্রম শরীরের সংকেত বোঝার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

খিদে লাগলে মেজাজ খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সবাই একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান না। গবেষণা বলছে, যারা নিজের শরীরের সংকেত ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তারা ক্ষুধার মধ্যেও তুলনামূলক শান্ত থাকতে সক্ষম হন। নিয়মিত খাবার, শরীরের প্রতি সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন আমাদের ‘হ্যাংরি’ হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। নিজের শরীরকে বুঝতে শেখা শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও সমানভাবে জরুরি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে