ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
Sharenews24

রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের সুপারিশে ‘বিএনপির না’

২০২৫ মার্চ ২৩ ১৯:২৫:২৯
রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের সুপারিশে ‘বিএনপির না’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের সুপারিশে দ্বিমত জানিয়েছে। শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫, বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তাদের মতামত জমা দিয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে তাদের লিখিত মতামত জমা দেয়।

বিএনপি তাদের মতামত দেয়ার সময় রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংসদীয় আসন পুনঃনির্ধারণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখা, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে এক কাতারে আনা, সংবিধানের মূলনীতির পরিবর্তনসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে দ্বিমত জানিয়েছে।

বিএনপি জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের বিরোধী। বর্তমান নাম 'বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র' রাখা উচিত, কারণ দেশের জনগণ এটি দীর্ঘ সময় ধরে গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী রাষ্ট্রের নাম 'জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ' বা 'নাগরিকতান্ত্রিক বাংলাদেশ' করার প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করে না। বিএনপির দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে কোনও বড় অর্জন হবে না এবং এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে।

বিএনপি বলছে, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে এক কাতারে আনা তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মনে করে, মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব আলাদা এবং গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন জায়গায় বিবেচনা করা উচিত। এ বিষয়ে বিএনপি তাদের পরবর্তী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবে।

এছাড়া, বিএনপি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, এনআইডি যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়া হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে বারবার তাদের সহযোগিতার জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে হবে, যা কার্যক্রমকে দুর্বল করবে। বিএনপি এ আইনের সংশোধন চাইছে, যাতে এনআইডি নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখা যায়।

বিএনপি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার ওপরেও মত দিয়েছে। তাদের মতে, নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ করবে, এবং এই সংক্রান্ত একটি মুদ্রণত্রুটি সংশোধন করা দরকার।

বিএনপি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্ব অবস্থা বজায় রাখতে চায়। তারা মনে করে যে, বর্তমানে যে ধারাগুলো রয়েছে, সেগুলো আরো আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে, কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর পূর্ব অবস্থায় থাকতে হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশন ইতোমধ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার বিষয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের আলোচনায় ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে মতামত দিতে বলা হলেও অনেক দল এখনও তাদের মতামত জমা দেয়নি।

আরিফ/

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে